থানচিতে জাতীয়করণের ঘোষণায় আনন্দ, তবে চাকরি হারানোর শঙ্কায় বিনা বেতনের শিক্ষকরা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

থানচিতে জাতীয়করণের ঘোষণায় আনন্দ, তবে চাকরি হারানোর শঙ্কায় বিনা বেতনের শিক্ষকরা

থানচিতে জাতীয়করণের ঘোষণায় আনন্দ, তবে চাকরি হারানোর শঙ্কায় বিনা বেতনের শিক্ষকরা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের দুর্গম থানচি উপজেলার তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথচলা। পরিত্যক্ত একটি টিনশেড ঘরে যাত্রা শুরু করা বিদ্যালয়টি আজ জাতীয়করণের সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে। সরকারের জাতীয়করণের ঘোষণায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে আনন্দের সঞ্চার হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসা শিক্ষকরা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে তিন্দু গ্রুপিংপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরোনো পরিত্যক্ত টিনশেড ভবন সংস্কার করে সেখানে তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১৯ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নতুন ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার পর পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
তৎকালীন তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমার অর্থায়ন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতেই পাঁচজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয় এবং রেমাক্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং (মিংলেন)-কে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০২২ সালে চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা বিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ের আয় বৃদ্ধি ও শিক্ষক বেতন প্রদানের লক্ষ্যে তিনি একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা (ইঞ্জিন বোট) প্রদান করেন। বর্তমানে সেই বোট পরিচালনা করে অর্জিত আয় দিয়েই বিদ্যালয়ের পরিচালনা ব্যয় ও শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের জীর্ণ টিনশেড ভবনের চারটি কক্ষের মধ্যে তিনটিতে পাঠদান চলছে এবং একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পেছনের একটি কক্ষ ছাত্রাবাসের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে নবম শ্রেণিতে ৪ জন, অষ্টম শ্রেণিতে ৮ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৯ জন এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৮ জনসহ মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়। তবে বিদ্যালয়ের নথিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২ জন উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া সরেজমিনে তিনজন শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও কাগজে-কলমে ১৩ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তালিকাভুক্ত অনেক শিক্ষক অন্যত্র কর্মরত রয়েছেন।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশে তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটি নতুন ভবনের প্রথম তলার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।
সহকারী শিক্ষক পাওং ম্রো বলেন, "২০২০ সালে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে যোগদান করলেও প্রায় ৪০ মাস কোনো বেতন পাইনি। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেই পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। বেতন না পাওয়ায় শিক্ষক নিবন্ধন ও বি.এড. সম্পন্ন করাও সম্ভব হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের মতো পাঁচজন শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে কাজ করছি। তবে কাগজে-কলমে আরও ১৩ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে, যাদের অনেকেই অন্যত্র চাকরি করেন। জাতীয়করণ হলে বাস্তবে কর্মরত শিক্ষকরা সুযোগ পাবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।"
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী পংএ খুমী, নাংথং ম্রো, থুইমেচিং মারমা ও চন্দ্রা ত্রিপুরা জানায়, তাদের অধিকাংশের পরিবার দরিদ্র হওয়ায় অনেক সময় লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। জাতীয়করণের ঘোষণা তাদের নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
তারা বলে, "আমরা লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। জাতীয়করণ হলে আমাদের মতো দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা আরও ভালো সুযোগ পাবে।"
এদিকে জাতীয়করণের জন্য নির্ধারিত শর্তগুলো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয়করণের ক্ষেত্রে নিজস্ব জমি, অন্তত ১২০ জন শিক্ষার্থী, মানসম্মত স্থায়ী ভবন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো, শৌচাগার, নিবন্ধিত শিক্ষক, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং পরিচালনা কমিটির নির্ধারিত যোগ্যতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব শর্ত পূরণে দেশের অনেক দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবে উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো পরিচালিত হলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবল সংকট এখনো কাটেনি। প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে।
সহকারী শিক্ষক পুচিংমং মারমা বলেন, "দীর্ঘ ছয় থেকে সাত বছর ধরে বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করা শিক্ষকরা জাতীয়করণের কঠোর শর্তের কারণে বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।"
সহকারী শিক্ষিকা কাইলং খুমী ও নাংছুং খুমী বলেন, "জাতীয়করণের সময় শুধু অবকাঠামো নয়, দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ স্বীকার করে পাঠদান করে আসা শিক্ষকদের বাস্তব অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।"
অভিভাবক চিংথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, "জাতীয়করণের ঘোষণা দুর্গম এলাকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে যারা বছরের পর বছর বিনা বেতনে পাঠদান করেছেন, তাদের যেন অবমূল্যায়ন না করা হয়।"
প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং (মিংলেন) বলেন, "আমি এই দুর্গম এলাকার সন্তান। এখানে এসএসসি পাস শিক্ষার্থীও একসময় পাওয়া কঠিন ছিল। তাই যত কষ্টই হোক, বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে আজীবন কাজ করে যাব। ইঞ্জিন বোট পরিচালনা করে শিক্ষকদের বেতনের ব্যবস্থা করছি। জাতীয়করণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কর্মরত শিক্ষকদের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানাই।"
তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, "দুর্গম এই ইউনিয়নে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বিদ্যালয়টির জাতীয়করণ অত্যন্ত প্রয়োজন। আমরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই এবং দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণের বিষয়টিও ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আহ্বান জানাই।"

এই সংস্করণটি প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশযোগ্য ভাষায় সাজানো হয়েছে। এখানে তথ্যের ধারাবাহিকতা, উদ্ধৃতির ভারসাম্য এবং সংবাদধর্মী উপস্থাপনা বজায় রাখা হয়েছে।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।




লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারে শীর্ষ স্থান বজায় রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন শিক্ষার্থী সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৬৭ শতাংশ।

পুরো লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১৩ জন) পেয়েছে একাই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪.২০ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় ১,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৫ জন (পাসের হার ৪৭.০৯ শতাংশ), দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৪৭.১৫ শতাংশ) এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৮২.৭৬ শতাংশ)।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের এই ধারাবাহিক ও অভাবনীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আলো ছড়িয়ে লামার সুনাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়টি।

অন্যদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের এসএসসি ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।