দিনমজুর থেকে ইয়াবা সাম্রাজ্যের গডফাদার: 'সোর্স' পরিচয়ে কোটিপতি ইউনুস
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

দিনমজুর থেকে ইয়াবা সাম্রাজ্যের গডফাদার: 'সোর্স' পরিচয়ে কোটিপতি ইউনুস

দিনমজুর থেকে ইয়াবা সাম্রাজ্যের গডফাদার: 'সোর্স' পরিচয়ে কোটিপতি ইউনুস
ছবি সংগৃহীত।

দিনমজুর ও সামান্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পরিচয় আড়ালে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের করইবনিয়া গ্রামের রশিদ আহমেদের পুত্র ইউনুসের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, তথাকথিত 'সোর্স' পরিচয় ব্যবহার করে মাদক ব্যবসার নিরাপদ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল সে। কয়েক বছরের ব্যবধানে শূন্য থেকে কোটিপতি হয়ে ওঠা ইউনুসের এই রহস্যজনক উত্থান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বছর কয়েক আগেও ইউনুস মানুষের বাসাবাড়িতে দৈনিক বেতনের ইলেকট্রিক মিস্ত্রির কাজ করত। সংসারের ন্যূনতম খরচ চালাতেও হিমশিম খেতে হতো তাকে। অথচ হঠাৎ করেই তার জীবনযাত্রায় আসে নাটকীয় পরিবর্তন। পাকা বাড়ি, একাধিক জমি, কয়েকটি ড্রাম ট্রাক, দামি মোটরসাইকেল ও বিলাসী চলাফেরা—সবকিছুই প্রশ্নের জন্ম দেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ইউনুস নিজেকে বিভিন্ন সময় মাদকবিরোধী অভিযানের সোর্স হিসেবে পরিচয় দিত। এতে করে এলাকায় সে এক ধরনের অঘোষিত প্রভাব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করত। অভিযোগ রয়েছে, এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে সে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করত।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ইউনুস নিজে খুব কমই ইয়াবা বহন করত। বরং একটি শক্তিশালী সহযোগী চক্রের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করায় এতদিন সে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিল। তার মাদক চোরাচালান কাজে সহযোগিতা করে ব্যবসা উর্বর করে যাচ্ছে একই এলাকার আবছার ও জাহাঙ্গীর।

ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানান, মাদকের প্রভাবে এলাকার তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন আগে ইউনুস একটি টমটম থামিয়ে প্রায় ৩০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই করে। পরবর্তীতে সে প্রশাসনের কাছে মাত্র ৮ হাজার পিস ইয়াবা জমা দিয়ে বাকি ২২ হাজার পিস ইয়াবা আত্মসাৎ করে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

১২ই ডিসেম্বর বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়ন অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ৫০ হাজার পিস উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলোর মালিক ইউনুস বলে দাবি করছে অনেকেই।

এছাড়া এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, ইউনুসের এসব অপকর্মের বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে বা প্রতিবাদ করতে চাইলে তাকে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাঁরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

ইউনুসের অপকর্ম ও এলাকাবাসীকে রাজনৈতিকভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে সরাসরি দেখা করবে বলে ফোন কেটে দেয়।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, ইউনুস নামে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।