দুদকের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য: বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফের নারী কেলেঙ্কারি, সাময়িক বরখাস্ত
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

দুদকের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য: বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফের নারী কেলেঙ্কারি, সাময়িক বরখাস্ত

দুদকের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য: বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফের নারী কেলেঙ্কারি, সাময়িক বরখাস্ত
ছবি সংগৃহীত।

নারী কেলেঙ্কারি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাতকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

২৩ জুন বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এটি সরকারি এই দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় তারা বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।


এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অবস্থান সুসংহত করেন। সরকার পরিবর্তনের পরও তিনি নিজের প্রভাব অক্ষুণ্ন রেখে আগের মতোই সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০০.০১.২৬০০.৬০৩.০১.২৩৪.২৩-৩২১৭, তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (প্রশাসন)-এর কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে নানাবিধ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানের স্বার্থে বিভিন্ন নথিপত্র চাওয়া হয়।

দুদকের চাহিদাপত্রে নারায়ণগঞ্জ পোর্ট এবং সদরঘাট পোর্টের নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাংক হিসাবের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথি, চাকরিজীবনের শুরু থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত বেতন-ভাতা সংক্রান্ত তথ্য, দায়িত্বসংক্রান্ত অফিস আদেশ এবং তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইদের নামে ব্যবসা বা শেয়ার পরিচালনার অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


অভিযোগকারীদের দাবি, আরিফ হাসনাত অবৈধ আয়ের অর্থে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একটি বহুতল ভবন ক্রয় করেছেন। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, পাবনা জেলায় বিপুল পরিমাণ জমি এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের মালিকানা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া একাধিক বেসরকারি ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার এবং পদমর্যাদার বাইরে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং-১৮.০০.০০০০.০১৯.১৮.০১৩.২১-২৯৫, তারিখ ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ এবং পরবর্তী স্মারক নং-১৮.০০.০০০০.০১৯.১৮.০১৩.২১.১০৩, তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২৪ অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএর সাংগঠনিক কাঠামোয় এস্টেট ও আইন বিভাগের পদ সৃষ্টির বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে অর্থ বিভাগের আপত্তি ও সীমিত সম্মতির বিষয় উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পরিচালক পর্যায়ের সুবিধা ভোগ করা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না।


পরিচালক আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জীবন ও আচরণ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের পাশাপাশি নতুন একটি অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মোহাম্মদপুর এলাকার এক নারীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি ভিডিও ফুটেজ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকতা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভিডিও বা ডিজিটাল কনটেন্টের সত্যতা যাচাই ছাড়া এ ধরনের উপাদানকে প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। ফলে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে পরিচালক আরিফ হাসনাত তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

বিআইডব্লিউটিএ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুতর অনিয়মের বিষয় সামনে আসতে পারে। অন্যদিকে অভিযোগগুলো মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম পরিষ্কার করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখন সংশ্লিষ্টদের নজর দুদক ও সরকারের তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দিকে। অনুসন্ধানের ফলাফলই নির্ধারণ করবে আলোচিত এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।