নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপেচাষিদের স্বপ্ন শেষ করে দিল বন্যা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপেচাষিদের স্বপ্ন শেষ করে দিল বন্যা

নাইক্ষ্যংছড়িতে পেঁপেচাষিদের স্বপ্ন শেষ করে দিল বন্যা
ছবি সংগৃহীত।

মাত্র আর কয়েকদিন অপেক্ষা। এরপরই বাজারে উঠত পাকা পেঁপে। বিক্রির টাকা দিয়ে শোধ হতো ব্যাংকের ঋণ, পরিশোধ হতো ধারদেনা। সংসারে ফিরত স্বস্তি। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম আঘাতে সেই স্বপ্ন এখন শুধুই দীর্ঘশ্বাস। টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও ভয়াবহ বন্যায় চোখের সামনে ফলভর্তি প্রায় দুই শতাধিক পেঁপে গাছ পচে-গলে মাটিতে মিশে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের কৃষক মো. ছৈয়দ আলম। তাঁর মতো একই দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছেন উপজেলার শত শত কৃষক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে ওঠা পেঁপেবাগান। মাঠজুড়ে এখন শুধু পচা গাছ, ঝরে পড়া ফল আর কৃষকের হাহাকার।

শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলার ঘুমধুম, বাইশারী, সদর ও দোছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখনো পানি ও কাদায় ডুবে রয়েছে। কোথাও পেঁপে গাছ উপড়ে পড়ে আছে, কোথাও গাছের কাণ্ডে পচন ধরেছে, আবার কোথাও ফলসহ পুরো গাছ লালচে হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কলা, বেগুন, মরিচ, ঢেঁড়স, শসাসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ক্ষেতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঋণ নিয়ে গড়া বাগান, এক টাকাও আয় হলো না

উত্তর কল্লিয়ামুরা গ্রামের কৃষক মো. ছৈয়দ আলম কয়েক মাস আগে কৃষি বিভাগের পরামর্শে কক্সবাজার থেকে উন্নত জাতের পেঁপের চারা এনে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনার টাকায় জমি প্রস্তুত, চারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় দেড় লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। গাছে আশানুরূপ ফলনও এসেছিল। বড় বড় পেঁপে বাজারজাত করার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যার পানিতে তাঁর প্রায় দুই শতাধিক পেঁপে গাছ ফলসহ নষ্ট হয়ে যায়। কোথাও গাছ ভেঙে পড়ে, কোথাও পচে যায়, আবার কোথাও গাছের পাতা ও ডাল ঝরে পড়ে। ফলে একটি পেঁপেও বাজারে তুলতে পারেননি তিনি।

কৃষক ছৈয়দ আলম বলেন, “অনেক আশা নিয়ে ঋণ আর ধারদেনা করে পেঁপে চাষ করেছিলাম। ভাবছিলাম বিক্রির টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করব, সংসার ভালোভাবে চলবে। কিন্তু বন্যার পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এক টাকারও পেঁপে বিক্রি করতে পারিনি। এখন কীভাবে ঋণ পরিশোধ করব, কীভাবে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেব জানি না। সরকার যদি আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে বাঁচার আর কোনো পথ থাকবে না।”

প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকার বিনিয়োগ, ফিরেছে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার

ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু ফাত্রাঝিরি গ্রামের কৃষক মো. আবদুর রহিম চার কানি জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। জমি প্রস্তুত, উন্নত জাতের চারা, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিচর্যায় এই অর্থ ব্যয় করেন তিনি। কিন্তু ভয়াবহ বন্যায় তাঁর বাগান প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি পুরো বাগান নষ্ট হয়ে গেছে।

আবদুর রহিম বলেন, “ঋণ করে পেঁপেবাগান করেছিলাম। এবার ভালো লাভের আশা ছিল। কিন্তু বন্যা সব শেষ করে দিয়েছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি।”

লাখ লাখ টাকার ক্ষতি, নতুন করে চাষের পুঁজিও নেই

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের টানা বর্ষণ ও বন্যায় দীর্ঘ সময় ধরে কৃষিজমিতে পানি জমে থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পেঁপেবাগান। পাশাপাশি কলা, বেগুন, মরিচ, ঢেঁড়স, শসাসহ অন্যান্য সবজির ক্ষেতও নষ্ট হয়েছে। এতে লাখ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

অনেক কৃষক জানান, ঋণ ও ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন সেই পুঁজিও হারিয়ে নতুন করে মাঠে নামার মতো সামর্থ্য নেই। তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি চালুর দাবি জানান। অন্যথায় অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইনামুল হক বলেন, “প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৫০০ জন কৃষকের মধ্যে সাত ধরনের সবজির বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”

নাইক্ষ্যংছড়ির কৃষকদের আশা, সরকার দ্রুত ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও সহজ শর্তে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করলে তাঁরা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। অন্যথায় এবারের বন্যা শুধু ফসলই নয়, বহু কৃষক পরিবারের জীবিকার ভিত্তিও ভেঙে দেবে। সীমান্ত জনপদের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।




লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারে শীর্ষ স্থান বজায় রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন শিক্ষার্থী সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৬৭ শতাংশ।

পুরো লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১৩ জন) পেয়েছে একাই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪.২০ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় ১,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৫ জন (পাসের হার ৪৭.০৯ শতাংশ), দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৪৭.১৫ শতাংশ) এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৮২.৭৬ শতাংশ)।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের এই ধারাবাহিক ও অভাবনীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আলো ছড়িয়ে লামার সুনাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়টি।

অন্যদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের এসএসসি ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।