নাইক্ষ্যংছড়ির অজস্র মানুষের দাবি, উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযুক্ত করে আনা হোক নতুনত্ব
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির অজস্র মানুষের দাবি, উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযুক্ত করে আনা হোক নতুনত্ব

নাইক্ষ্যংছড়ির অজস্র মানুষের দাবি, উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযুক্ত করে আনা হোক নতুনত্ব
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযুক্তকরণ এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। ওয়াচ টাওয়ার, ঝুলন্ত ব্রিজ, কায়াকিং বোট, টংঘর, দোলনা ও অপরাপর বিনোদন স্পটে মানুষ দীর্ঘদিন মুগ্ধ। এখন নতুন করে কেবল কার সংযোজন সময়ের দাবি। এটি হলে পার্শ্ববর্তী কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত দর্শনের পর পাহাড়ের আকর্ষণ তৃপ্তিসহকারে পূরণ করতে পারবেন ভ্রমণপিপাসুরা।

মঙ্গলবার (১২ মে) এ প্রতিবেদক স্থানীয় ভ্রমণপ্রিয় সচেতন মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া জানতে পারেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আলম কোম্পানি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম বাহাদুর এ প্রতিবেদককে বলেন, বান্দরবানের অতি আকর্ষণীয় নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন পর্যটন লেক। এটিতে প্রতিদিন শত শত ভ্রমণপিপাসু আসেন। স্থানীয় ছাড়াও দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে। বিশেষ করে ঈদ-পার্বণ ও শীত মৌসুমে পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে অনেক গুণ হয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরোনো অবকাঠামো দেখতে দেখতে অনেকটা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন পর্যটকরা। এখন নতুন কিছু চান তারা। এ অবস্থায় এখানে কেবল কার সংযোজন খুবই প্রয়োজন; যা তাদের দাবিও বটে।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল এ প্রতিবেদককে বলেন, ১৯৮৭-৮৮ অর্থবছর ও এর আগের অর্থবছরে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে এটি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যা ক্রমান্বয়ে সবার অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হয়েছে। সরকার ও নেতা সবাই এর উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেন। তবে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে মানুষের চাহিদাও ডিজিটালাইজড হয়েছে। তাই অন্যান্য জনপ্রিয় পর্যটন স্পটের মতো এখানে কেবল কার সংযুক্ত করলে এই পর্যটন লেকটি আরও আকর্ষণীয় হবে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুদ্দিন বাহাদুর বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার উপবন পর্যটন লেকে কেবল কার সংযোজনে তিনি ভূমিকা রাখবেন। কারণ এটি নতুনত্ব সৃষ্টি করবে। কক্সবাজারের পর এটি হবে পাহাড়ের এক অপরূপ সৌন্দর্যের অংশ। শিক্ষক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, এটি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাঈনুদ্দিন খালেদ বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বিনোদন স্পটে নতুনত্ব দরকার। শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে এবং বিনোদনের জন্য আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট খুবই জরুরি। আর এ আকর্ষণ সৃষ্টিতে বান্দরবান জেলার 'পাহাড়ের রানি' খ্যাত নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যটন লেকে কেবল কার সংযোজনে সংশ্লিষ্টদের কাছে জোর দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউর ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি গুরুত্ববহ। জনস্বার্থে সব কাজ সরকার করবে, এটিও তার অংশ। পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানও পাহাড়ের পর্যটন স্পটগুলোর সৌন্দর্যবর্ধনে আগ্রহী। তিনিও এ বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন; তবে স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসতে হবে।




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।




লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারে শীর্ষ স্থান বজায় রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন শিক্ষার্থী সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৬৭ শতাংশ।

পুরো লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১৩ জন) পেয়েছে একাই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪.২০ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় ১,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৫ জন (পাসের হার ৪৭.০৯ শতাংশ), দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৪৭.১৫ শতাংশ) এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৮২.৭৬ শতাংশ)।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের এই ধারাবাহিক ও অভাবনীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আলো ছড়িয়ে লামার সুনাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়টি।

অন্যদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের এসএসসি ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।