নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী

নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন জনগণ থেকে দূরে না ঠেলে: এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই নিজের সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এসএসএফকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

একইসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাধারণ জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ম্যান্ডেট পেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয় বর্তমান সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের পর জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে নিজের গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি।

ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে হয়তো দক্ষতা এবং নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে।
গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে প্রায়শই জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা, অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা- এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে তাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকালীন ও মৃত্যুর পর এসএসএফের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মরহুমা খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। তার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য আমি আমার ও পরিবারের পক্ষ থেকে এসএসএফকে ধন্যবাদ জানাই।

বর্তমান সময়ের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে। এসব মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। সাহস, দক্ষতা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফের পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং উদ্বোধনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে এই ফায়ারিং রেঞ্জ বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

২০০২ সালের পর এসএসএফের নির্দেশনামূলক ‘রেড বুক’ সংস্কার করে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে। নির্দেশনার পাশাপাশি সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তাদের নিয়ে এসএসএফ গঠিত। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় যত বেশি নিখুঁত হবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত সুচারু হবে।

সবশেষে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ও দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে এসএসএফ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তারেক রহমান।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।