ন্যায়বিচার ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা নিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পদযাত্রায় দুই তরুণ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন

ন্যায়বিচার ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা নিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পদযাত্রায় দুই তরুণ

ন্যায়বিচার ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা নিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পদযাত্রায় দুই তরুণ
ছবি সংগৃহীত।

ন্যায়বিচার, পরিচ্ছন্নতা, দেশপ্রেম ও সামাজিক সচেতনতার বার্তা মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন দুই তরুণ। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত পায়ে হেঁটে এক হাজার চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার লক্ষ্যে আজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে তারা এই পদযাত্রা শুরু করেন।

দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ জিরো পয়েন্ট থেকে বুধবার সকাল ৮টায় 
দুই তরুণ তাদের এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন। আগামী ২৫ দিনে দেশের সর্বউত্তরের প্রান্ত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এই দুঃসাহসী পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন ফেনী সদর দক্ষিণ উপজেলার ছনুয়া এলাকার মুসলিম আহমেদ সোহান (২২) এবং একই জেলার ছড়াদ কান্দি গ্রামের মোহাম্মদ আলী ফিরোজ (২৪)। সোহান ফেনী সিটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন এবং ফিরোজ ফেনী সরকারি কলেজের সম্মান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

পদযাত্রী দুই তরুণ জানান, এই যাত্রা কেবল কোনো ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। তাদের এই উদ্যোগের পেছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। তা হচ্ছে- ‘হাদি ভাই’ হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি এবং একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য জনসচেতনতা তৈরি করা।

​যাত্রার বিষয়ে তারা বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি। আমরা চাই মানুষের বিবেক জাগ্রত করতে এবং সমাজের বাস্তব চিত্র সবার সামনে তুলে ধরতে।”

টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা দুই তরুণের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। শাহপরীর দ্বীপে যাত্রা শুরুর সময় উপস্থিত অনেকে তাদের এই সফরের সফলতা ও নিরাপত্তা কামনা করেন। উল্লেখ্য, এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও স্থান অতিক্রম করবেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।