পদ্মা–মেঘনায় দেড় লাখ লিটার ডিজেল গায়েব
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩১ পূর্বাহ্ন

পদ্মা–মেঘনায় দেড় লাখ লিটার ডিজেল গায়েব

পদ্মা–মেঘনায় দেড় লাখ লিটার ডিজেল গায়েব
ছবি সংগৃহীত।

যমুনা অয়েল কোম্পানির পর এবার পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ডিপোতেও বড় ধরনের ডিজেল ঘাটতির ঘটনা ধরা পড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দুটি কোম্পানির নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ লিটার ডিজেল কম পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের পতেঙ্গার মূল টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে সরবরাহ পাঠানোর পর ডিপোতে পৌঁছে পরিমাপে এই ঘাটতি দেখা যায়। বিষয়টি সামনে আসার পর তেল পরিবহণ, মিটারিং ও ট্যাংকের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, ১০ নভেম্বর মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গোদনাইল ডিপোতে পাইপলাইনে পাঠানো হয় ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৭২৪ লিটার ডিজেল। তবে ডিপোতে ট্যাংকে মেপে পাওয়া যায় ২৪ লাখ ২২ হাজার ৪৭৩ লিটার—এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১ লাখ ১৫ হাজার ২৫১ লিটার। একইভাবে ১১ নভেম্বর পদ্মা অয়েল পিএলসির ডিপোতে পাঠানো হয় ২৫ লাখ ২০ হাজার ৭৭০ লিটার, কিন্তু পাওয়া যায় ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৮ লিটার—এখানে ঘাটতি ২৭ হাজার ৩০২ লিটার। সব মিলিয়ে দুই ডিপোতে ঘাটতি প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ লিটার।

ডিপো সূত্রগুলো বলছে, তেল মাপার প্রচলিত পদ্ধতি এখনো ‘ডিপ স্টিক’ দিয়ে ট্যাংকের গভীরতা মাপার ওপর নির্ভরশীল। দুই মিলিমিটার কম দেখালেই প্রায় ১ হাজার ১৮০ লিটার তেলের পার্থক্য দেখানো সম্ভব। এ কারণে প্রযুক্তিনির্ভর মিটারের পাশাপাশি এই সনাতনী পদ্ধতিতে অনিয়মের সুযোগ থাকছে। পাইপলাইনের চট্টগ্রাম ও ঢাকার প্রান্তে মিটার থাকলেও ডিপো ট্যাংকের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ আছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীরুল হাসান বলেন, “পাইপলাইনে সরবরাহ এখনো পরীক্ষামূলক। দুই প্রান্তের মিটার বা ট্যাংকের সক্ষমতায় ত্রুটি থাকতে পারে। শীতের সময় তাপমাত্রা কমে তেলের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় পরিমাপে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে।”

পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, “পাইপলাইনের মিটার হিসাব অনুযায়ী বাড়তি ১ হাজার ৮০০ লিটার তেল আছে। শীতে মাপ কম আসতে পারে। নিয়মিত সরবরাহ শুরু হলে এসব ঠিক হয়ে যাবে।”

এদিকে যমুনা অয়েল কোম্পানিতে এর আগেও তেল চুরি, ট্যাংকের সক্ষমতা বাড়তি দেখানো ও অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠেছিল। গত সেপ্টেম্বরে যমুনার ফতুল্লা ডিপোতে বিশাল ঘাটতির ঘটনা সামনে আসার পর তদন্তে দেখা যায়, ট্যাংকের সক্ষমতা ইচ্ছাকৃতভাবে কম দেখানো হয়েছিল। নতুন করে সক্ষমতা যাচাইয়ে দুটি ট্যাংকের ধারণক্ষমতা বেড়ে যায় ৭৭ হাজার ৪৯২ লিটার। এতে ধারণা মিলেছে—ট্যাংকের চার্ট ম্যানিপুলেশন করে দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরি করা হয়েছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিন কোম্পানির ডিপোতে ট্যাংকের সক্ষমতা, দুই প্রান্তের মিটার, পাইপলাইনের অবস্থা এবং সার্ভে রিপোর্ট—সবকিছু নতুন করে যাচাই করা হবে। প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুল হক বলেন, “পাইপলাইনে তেল গায়েবের সুযোগ নেই। কোথাও না কোথাও তেল আছে। মিটার রক্ষণাবেক্ষণ চলছে। মিটার ঠিক হলে তিন ডিপোর সক্ষমতাও যাচাই করা হবে।”

জাহাজ থেকে পেট্রলপাম্প পর্যন্ত তেল চুরির ইতিহাস বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত সমস্যা। চুরি, অপচয় ও অনিয়ম রোধে সরকার ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম-ঢাকা পাইপলাইন প্রকল্প হাতে নেয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের মার্চে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। ব্যয়ও বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকায়। পাইপলাইনের উদ্দেশ্য ছিল তেল পরিবহণে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে পরীক্ষামূলক চালু হওয়া সরবরাহেই বারবার ঘাটতি ধরা পড়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে ব্যবস্থাপনা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, “জাহাজ থেকে ডিপো, ডিপো থেকে পাম্প—সব জায়গায় তেল চুরি হয়, এটা সবার জানা। পাইপলাইন করা হলো চুরি রোধে। তারপরও কিভাবে তেল গায়েব হয়? ট্যাংকের সক্ষমতা কমাতে যারা জড়িত তাদের শাস্তি হয়নি কেন? রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় আগে চুরি হয়েছে, কিন্তু এখন কেন হচ্ছে? নিরপেক্ষ নাগরিকদের দিয়ে বা আদালতের মাধ্যমে তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত।”

জ্বালানি তেল চুরি নিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর গত মাসে জ্বালানিসচিবের সভাপতিত্বে বিপিসির কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়—শ্রমিক সংগঠনের দৌরাত্ম্য বন্ধে নজরদারি বাড়ানো, ডিপো ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা আনা এবং একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা। এই কমিটি পাইপলাইন, ট্যাংকের সক্ষমতা, মিটারিং ব্যবস্থাসহ সব কারিগরি ও অপারেশনাল বিষয় পরীক্ষা করে সুপারিশ দেবে।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জানিয়েছেন, পাইপলাইন এখনো প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্প হস্তান্তরের পর বিপণন কোম্পানিগুলো দুই প্রান্তের মিটারের ভিত্তিতে সরাসরি তেল বুঝে নেবে, তখন দায়িত্বও নির্দিষ্ট হবে।

পদ্মা ও মেঘনা ডিপোতে দেড় লাখ লিটারের এই ঘাটতি তেল পরিবহণ ব্যবস্থায় অব্যাহত অনিয়ম, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো অবকাঠামো এবং স্বচ্ছতা-সংকটের চিত্রই তুলে ধরেছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে ঘাটতির প্রকৃত কারণ জানা যাবে—মিটার ত্রুটি, ট্যাংকের সক্ষমতায় ভুল, নাকি অন্য কোনো অনিয়ম—এখন সেদিকেই সবার নজর।

 
 
 



চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।