পাশাপাশি দুটি ভাঙলেও অদৃশ্য ইশারায় অক্ষত অবৈধ এসবিএম ইটভাটা

চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানে গত বছর হারবাং ইউনিয়নের দুটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও রহস্যজনকভাবে অক্ষত রয়ে গেছে এসবিএম নামের একটি ইটভাটা। স্থানীয়দের দাবি, অদৃশ্য ইশারায় এই ভাটাটি রক্ষা পাচ্ছে।
জানা গেছে, উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকায় লোহাগাড়া গ্রামের শামসুল আলমের মালিকানাধীন এসবিএম (SBM) নামের ইটভাটাটি চট্টগ্রাম বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীন বনভূমির ভেতরে অবস্থিত। আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে কোনো ধরনের ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও বছরের পর বছর ধরে ভাটাটি নির্বিঘ্নে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ভাটাটির মালিক শামসুল আলম একজন প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্ব ও প্রভাবের কারণে প্রশাসনিক অভিযানের সময় পাশের দুটি ভাটা ভেঙে দেওয়া হলেও এসবিএম ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসী আরও জানান, ইটভাটাটির কারণে বনাঞ্চলের গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও হুমকির মুখে পড়ছে। ধোঁয়া ও কালো ছাইয়ে আশপাশের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। তাছাড়া পাহাড় কেটে মাটি ব্যবহার করছে ভাটাটি।
এসব ভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বনাঞ্চল ধ্বংসের পাশাপাশি জলবায়ু ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, "আমি সবেমাত্র চকরিয়ায় যোগদান করেছি। কোনটা বৈধ, কোনটা অবৈধ খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এলাকাবাসী ও পরিবেশ সচেতন মহল দ্রুত এসবিএম ইটভাটা-সহ হারবাং ইউনিয়নের অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে নিরপেক্ষ ও কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।










