পিসিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত: সভাপতি কাজী মজিবর ও মহাসচিব মোঃ শাব্বির
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

পিসিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত: সভাপতি কাজী মজিবর ও মহাসচিব মোঃ শাব্বির

পিসিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত: সভাপতি কাজী মজিবর ও মহাসচিব মোঃ শাব্বির
ছবি সংগৃহীত।

 

পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক অঙ্গন কিংবা সামাজিক সংগঠন যেখানেই গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং স্বচ্ছ নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া বজায় থাকে, সেখানেই সংগঠন এগিয়ে যায় দায়িত্বশীলতার দিকে। সেই ধারাবাহিকতায় পিসিএনপি (PCNP) তাদের ২০২৫ সালের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন সম্পন্ন করেছে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) চট্টগ্রামের অক্সিজেনস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সভাপতি পদে কাজী মজিবর রহমান এবং মহাসচিব পদে মোঃ শাব্বির আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন। গোপন ব্যালটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হওয়ায় সংগঠনটির ভেতরে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

পিসিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান রেজাউল করিম এবং অধ্যক্ষ আবু তাহের যথাযথ দায়িত্ব পালন করে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করেন। তাদের তত্ত্বাবধানে স্থায়ী কমিটির ২৫ জন ভোটারের মধ্যে ১৭ জন সদস্য সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা মনে করেন, এ ধরনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে পিসিএনপিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করবে।

সভাপতি পদে কাজী মজিবর রহমান এককভাবে সর্বাধিক ভোট পেয়ে ২য় বারের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির নীতি ও দিকনির্দেশনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তার সততা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতাই তাকে ২য় বারের জন্য সভাপতি হিসেবে সদস্যদের প্রথম পছন্দে পরিণত করেছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সদস্যরা মনে করেন, তার নেতৃত্বে পিসিএনপি আগামী দিনে আরও সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করবে। বিশেষ করে সংগঠন পুনর্গঠন, সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি নতুন মাত্রা যোগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মহাসচিব পদে ছিল ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মোঃ শাব্বির আহমেদ, আবদুল মজিদ ও লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি এডভোকেট পারভেজ তালুকদার। তিনজন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহাসচিব পদে নির্বাচন ছিল বেশ প্রতিযোগীতামূলক। সদস্যদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন মোঃ শাব্বির আহমেদ এবং এক সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তিনি বিজয়ী হন। তার প্রাপ্ত ভোটই প্রমাণ করে যে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার ওপর আস্থাশীল। সাংগঠনিক দক্ষতা, তথ্যভিত্তিক কাজ এবং তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা তাকে এই পদে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

নির্বাচনের পর উপস্থিত সকল সদস্যদের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে অভিষেক করবেন। এটি সংগঠনের কাঠামোকে দ্রুত সুসংগঠিত করতে সহায়তা করবে। সভাপতি ও মহাসচিব এখন বাকি পদগুলোতে যোগ্য ও নিষ্ঠাবান সদস্য নিয়োগ দিবেন।


নতুন সভাপতি ও মহাসচিব দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে পিসিএনপির সামনে নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ উন্মোচিত হয়েছে। সদস্যরা আশা করছেন, তারা সংগঠনের তুলনামূলক দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে উন্নয়নের পদক্ষেপ নেবেন,অভ্যন্তরীণ সংঘাত নিরসন করবেন, সদস্যদের মাঝে ঐক্য দৃঢ় করবেন, জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম বাড়াবেন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠনের সুনাম বৃদ্ধি করবেন।
নতুন এই নেতৃত্ব সংগঠনের মূল আদর্শ বজায় রেখে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী পিসিএনপি গড়ে তুলবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সকল সদস্য।


পিসিএনপির সাম্প্রতিক নির্বাচন শুধুমাত্র নেতৃত্ব পরিবর্তনেরই ঘটনা নয়; এটি সংগঠনের গণতান্ত্রিক চেতনার প্রকাশ। কাজী মজিবর রহমান সভাপতি এবং সাব্বির আহমেদ মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় সংগঠন নতুন গতিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সুসংগঠিত প্রক্রিয়ায়, স্বচ্ছ নির্বাচন ও সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ পিসিএনপিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি প্রদান করেছে। নতুন নেতৃত্ব এই আস্থা ও প্রত্যাশাকে সমুন্নত রেখে সংগঠনকে আগামী দিনগুলোতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এটাই সদস্যদের দৃঢ় বিশ্বাস।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।