পেকুয়ার বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে টেকসই বেড়িবাঁধ, স্লুইসগেট সংস্কার ও পুনর্বাসনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

পেকুয়ার বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে টেকসই বেড়িবাঁধ, স্লুইসগেট সংস্কার ও পুনর্বাসনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

পেকুয়ার বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে টেকসই বেড়িবাঁধ, স্লুইসগেট সংস্কার ও পুনর্বাসনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, স্লুইসগেট সংস্কার, খাল-নদী পুনঃখনন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 
তিনি বলেছেন, বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সরকার বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষকে একা ফেলে রাখা হবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পেকুয়া উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি পরিবারের মাঝে ঘর নির্মাণ ও গৃহস্থালি উপকরণ হস্তান্তর, বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ও স্লুইসগেট পরিদর্শন এবং বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পৃথক পৃথক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা মানবসেবা, দেশের সেবা ও দ্বীনের খেদমত করেন, মহান আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। সরকার ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ জরিপ পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমরা জনগণের সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই জনগণের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব, আদর্শ ও অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ, ক্ষমতার আগে জনতা’ নীতি অনুসরণ করে কাজ করছেন। “আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের সেবার জন্য কাজ করছি। তাই বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে সরকার জনগণের পাশে থাকবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়িই নয়, কৃষক, মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী ও লবণচাষিদেরও সহায়তার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামায় বারবার ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “বন্যা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পেকুয়ার সব বেড়িবাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণ করা হবে। স্লুইসগেটগুলো সংস্কার ও প্রয়োজনে নতুন করে নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে লবণাক্ত পানি যাতে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে প্রবেশ করতে না পারে, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, স্লুইসগেটের সব ধরনের লিজ বা ইজারা ব্যবস্থা বন্ধ করা হবে। খাল-নদী পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করতে বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করা হবে। বন্যাকবলিত মানুষের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সরকার তাদের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে ত্রাণ বিতরণকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্ড আছে কি নেই, সেটা বড় বিষয় নয়। ত্রাণ যেন প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটাই সরকারের লক্ষ্য।
শিলখালী ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি বলেন, শিলখালীবাসীর জন্য বন্যা নতুন নয়। প্রতি বছর পাহাড়ি ঢলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই বাস্তবতা মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে। সরকার কৃষি উৎপাদন ও চাষাবাদ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে।
টৈটং ইউনিয়নে তিনি বলেন, এ এলাকায় প্রায়ই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ সময় বহুল প্রতীক্ষিত ছনুয়া-রাজাখালী সেতু নির্মাণের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 
তিনি বলেন, ছনুয়া ও রাজাখালী—দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি নির্মাণের বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণের যাতায়াত সহজ করা এবং দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নেও বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা, থানা পুলিশের সদস্য, উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বেলা ৩টা থেকে নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার্তের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ ও সংস্কাবিহীণ স্লুইসগেট পরিদর্শনে যাবেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।