ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহা হত্যা: স্বামীসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহা হত্যা: স্বামীসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহা হত্যা: স্বামীসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গৃহবধূ সামিয়া হাকিম নেহার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী মারুফ পারভেজসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান নিহতের মা শারমিন আক্তার রূপা।

সংবাদ সম্মেলনে শারমিন আক্তার রূপার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের জ্যাঠাতো ভাই ওমর ফারুক লাভলু। লিখিত বক্তব্যে নিহতের মা অভিযোগ করেন, গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নেহা তাঁকে ফোন করে বিমর্ষ অবস্থায় ছিলেন। পরে রাতে নেহার পাঠানো একটি ভয়েস বার্তায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে ‘মা, আমাকে আজকে মেরে ফেলবে’ বলে জানান। খবর পেয়ে তিনি মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ছুটে যান। পরে নেহাকে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নেহা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রচার করা হলেও ঘটনাস্থলে আত্মহত্যার কোনো স্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। নেহার গলা ও থুতনির নিচে লালচে ক্ষত এবং গলায় নখের আঁচড়ের দাগ ছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা। পরিবারের দাবি, পুলিশ ঘটনাটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হিসেবে নিলেও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

শারমিন আক্তার রূপা আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই নেহার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। বিয়ের সময় প্রায় ১৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, আসবাব ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে ওয়াশিং মেশিন ও টাকা দাবি করা হয়। স্বামীকে ব্যবসার জন্য দুই লাখ টাকা দেওয়া হলেও ওই টাকা নিয়ে বিরোধের পর নেহার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিহতের মা বলেন, নেহার স্বামীর অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় নেহাকে মারধর করা হতো। এ ছাড়া নেহার মৃত্যুর আগে পাঠানো বার্তা ও লিখে যাওয়া চিরকুটে নির্যাতনের বিভিন্ন তথ্য রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

পরিবারের দাবি, মৃত্যুর সময় নেহা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ঘটনার পর তাঁর স্বামী মারুফ পারভেজ পালিয়ে যান এবং এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এ অবস্থায় ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মারুফ পারভেজসহ জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান নিহতের মা। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। তবে মামলাটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার পরিবর্তে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে নেহার পরিবার।




ফটিকছড়িতে দুই মন্দিরে চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন, চার গ্রেপ্তার; মালামাল, নগদ টাকা ও সিএনজি উদ্ধার

ফটিকছড়িতে দুই মন্দিরে চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন, চার গ্রেপ্তার; মালামাল, নগদ টাকা ও সিএনজি উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়িতে পৃথক দুটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল, নগদ টাকা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব ও মগধেশ্বরী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে লেলাং ইউনিয়নের শ্রী শ্রী মা মঙ্গল চণ্ডী মন্দিরেও চুরি হয়। পৃথক এসব ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করা হয়।

ঘটনার পর ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার দাউদকান্দির মো. ইউসুফ (৩২), ফটিকছড়ির উত্তর ধুরুং এলাকার মো. হাশেম (৪২), ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. সাহাব উদ্দিন (৪১) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার চন্দ্রপুর এলাকার রুহুল আমিন (২৯)। রুহুল আমিন বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর আই কলোনিতে বসবাস করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে তিনটি পিতলের ঘট, দুটি পিতলের পঞ্চপ্রদীপ, দুটি ত্রিশূল, একটি পিতলের ঘণ্টা, ছয়টি পিতলের সরই, ছয়টি স্টিলের ছোট-বড় প্লেট, দুটি চামচ, একটি পিতলের বড় ঘট, দুটি পিতলের কোষা, একটি বদনা, একটি কাঁসার গামলা, একটি গ্লাস, ছয়টি পিতলের ছোট থালা, একটি আরতি, একটি দুর্গামূর্তি ও চারটি পিতলের বাটি।

এ ছাড়া প্রণামী বাক্সে থাকা ১ হাজার ২০০ টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের দানবাক্সসহ অন্যান্য মালামাল চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি প্রতিরোধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।




ফটিকছড়িতে মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালংকারসহ পূজার সামগ্রী লুট

ফটিকছড়িতে মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালংকারসহ পূজার সামগ্রী লুট
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিকপাড়ার শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে প্রবেশ করে পূজার বিভিন্ন সামগ্রী, তিনটি ঘট এবং ঘটের সঙ্গে থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের লকেট নিয়ে যায়।

মন্দির কমিটির সভাপতি ও পরিচালক বিশ্বনাথ ধর বলেন, মন্দিরের পূজার জিনিসপত্র, তিনটি ঘট এবং ঘটের গলায় থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের লকেট নিয়ে গেছে। আনুমানিক দুই থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ ছিল। এমনকি আজকের পূজার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তারা রেখে যায়নি।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অমর কান্তি দে বলেন, দুর্গাপূজার আগে এমন চুরির ঘটনায় আমাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর একই এলাকার দারোগা আলী তালুকদার বাড়ির ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাহাদুরের ঘরে ঢুকে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় চোরের দল। আলমগীর হোসেন বাহাদুর লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেনের বড় ভাই। এর একদিন আগে সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া ব্রাহ্মণ সড়কে অবস্থিত শ্রী শ্রী মগধেশ্বরী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরের তালা ভেঙে দেবদেবীর গহনা, পূজার সামগ্রী ও দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পাইন্দং ইউনিয়নের যুগিনীঘাটা এলাকায় নুরুল আলম ফোরম্যানের বাড়ির খোরশেদুল আলমের ঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হাত-মুখ বেঁধে জিম্মি করে ডাকাত দল সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।




ফটিকছড়িতে ৪৬ প্রতিষ্ঠানের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত

ফটিকছড়িতে ৪৬ প্রতিষ্ঠানের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ৪৬টি প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে ২০০ কেজি রুই জাতীয় মাছের পোনা বিতরণ ও অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার এতিমখানা, মাদ্রাসা, মসজিদ, গুচ্ছগ্রাম ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের পুকুরে এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনার মধ্যে ছিল রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউস।

উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনা অবমুক্ত করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম।

এ সময় ফটিকছড়ি পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোবারক হোসেন কাঞ্চন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি মনসুর আলম চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বজল আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।