বদলির আদেশ উপেক্ষা করে পদুয়ায় বহাল ফরেস্টার মামুন মিয়া
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

বদলির আদেশ উপেক্ষা করে পদুয়ায় বহাল ফরেস্টার মামুন মিয়া

বদলির আদেশ উপেক্ষা করে পদুয়ায় বহাল ফরেস্টার মামুন মিয়া
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের অধীন পদুয়া রেঞ্জের ফরেস্টার মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠলেও, বদলির আদেশ কার্যকর হয়নি। বন অধিদপ্তর থেকে তাকে বরিশালের কোস্টাল রিজিয়নে বদলি করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি পুরনো কর্মস্থলেই বহাল রয়েছেন।
বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, মামুন মিয়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (ঈ.ঋ.) মোল্লা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং বন বিভাগের আলোচিত ‘চাঁদা সমন্বয়কারী বলয়ের’ সক্রিয় সদস্য। এই প্রভাবশালী বলয়ের সহায়তায় বদলির আদেশের বিরুদ্ধে সচিবালয় পর্যন্ত তদবির চালানো হচ্ছে। এমনকি সচিবের ওপর ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’ সৃষ্টির অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফরেস্টার মামুন মিয়া দায়িত্বে থাকার সময় রিজার্ভ বনভূমি থেকে গাছ পাচার, স’মিলে অবৈধ কাঠ সরবরাহ, বন মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়—এসব হয়ে উঠেছিল নিত্যদিনের চিত্র। বারবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকারি চাকরি আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, বদলি আদেশ অমান্য করাকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু মামুন মিয়া বদলি না হয়ে এখনো পদুয়ায় বহাল থাকায় এ প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করার সুযোগ কে বা কারা তৈরি করে দিয়েছে?
এই প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, “অন্য কেউ আসলে, সে চলে যাবে।” তবে জানা গেছে, তিনিই বদলির আদেশ বাতিলের জন্য সুপারিশপত্র দিয়েছেন। এই ধরনের সুপারিশ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ৩(খ) ও ৫ ধারা অনুযায়ী “প্রভাব বিস্তারমূলক অনুপযুক্ত আচরণ” হিসেবে গণ্য ।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, “যেখানে বদলি হয় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রতীক হিসেবে, সেখানে প্রভাব খাটিয়ে নিজ সুবিধাজনক পোস্টিং ধরে রাখার প্রবণতা গোটা কাঠামোকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।” তারা মনে করেন, একজন কর্মকর্তার বদলি ঠেকাতে পুরো কাঠামো নীরব থাকলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—আসলে কে নিয়ন্ত্রণ করছে বন বিভাগকে? নীতিনির্ধারক, না কি নেপথ্যের অদৃশ্য শক্তি? এই বিষয়ে কয়েকবার কল করেও মামুন মিয়ার সাথে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।