বনের জমিতে রোহিঙ্গা জাফরের ‘জমিদারি’: ভুয়া এনআইডিতে বাংলাদেশি পরিচয়
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

বনের জমিতে রোহিঙ্গা জাফরের ‘জমিদারি’: ভুয়া এনআইডিতে বাংলাদেশি পরিচয়

বনের জমিতে রোহিঙ্গা জাফরের ‘জমিদারি’: ভুয়া এনআইডিতে বাংলাদেশি পরিচয়
ছবি সংগৃহীত।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশি পরিচয়ে বন বিভাগের জমি দখল করে বসতভিটা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই রোহিঙ্গার নাম জামাল উদ্দিন হলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে জাফর আলম নামে পরিচয় দিচ্ছেন এবং ওই নামেই বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করেছেন।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা জামাল উদ্দিন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার বাসিন্দা। ২০১২ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বসবাস করলেও নানা জটিলতায় তিনি ক্যাম্পে নিবন্ধিত হতে পারেননি।

পরবর্তীতে পরিবারসহ তিনি চট্টগ্রামে চলে যান এবং দীর্ঘদিন ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। পরে আবার উখিয়ায় ফিরে এসে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্প রোডের মাথায় সড়কের পাশে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ফার্মেসি ব্যবসা শুরু করেন।

এদিকে জামাল উদ্দিন বর্তমানে নিজেকে জাফর আলম নামে পরিচয় দিচ্ছেন। প্রতিবেদকের হাতে আসা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, জাফর আলম নামে তাঁর এনআইডি নম্বর ২৮৪৫০১০০৭৯। এনআইডিতে জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে ৫ এপ্রিল ১৯৭২। পিতার নাম আব্দু সাফি এবং মাতার নাম গুল বাহার। ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার কে.বি আমান আলী রোডের ১৫৭২ নম্বর বাসা। তবে সরেজমিনে ওই ঠিকানায় গিয়ে এমন কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, উখিয়ার হাজম রোড এলাকায় বন বিভাগের প্রায় ১৪ শতক জমিতে টিনশেডের ঘর নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস করছেন জাফর আলম। বন বিভাগের উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, রাজাপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতুলি গ্রামের দিলশাদ বেগম নামে এক নারী স্ট্যাম্পের মাধ্যমে ওই জমি বিক্রি করেন। স্ট্যাম্পপত্রে জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, প্রকৃতপক্ষে জমিটি ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনা হয়েছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বন বিভাগের জমিটি উদ্ধার করা হবে।

অভিযুক্ত জাফর আলমের কাছে তাঁর প্রকৃত ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি কক্সবাজারের পাহাড়তলী এলাকায় বাড়ি রয়েছে বলে দাবি করলেও সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে অস্বীকৃতি জানান। রোহিঙ্গা পরিচয়ের বিষয়ে তিনি সরাসরি স্বীকার না করলেও বলেন, তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল করা হলে তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু জাফর আলম নন— আরও অনেক নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গার হাতেই বর্তমানে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের আব্দুর রহমান নামের এক রোহিঙ্গা নিজের সন্তানদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে জন্মনিবন্ধন করিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি রবিউল হোসাইন বলেন, রোহিঙ্গারা নানাভাবে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে মরিয়া হয়ে উঠছে। অনেক বিত্তবান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছে এবং কেউ কেউ বন বিভাগের জমিও কিনে নিচ্ছে। এতে তাঁদের মধ্যে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অনাগ্রহ তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের কঠোরভাবে দেখা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উখিয়ার কুতুপালং, হাজম রোড, থাইংখালীর মরা আমগাছতলা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গারা বন বিভাগের জমিতে স্থায়ী আবাস গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি র‍্যাব-১৫ উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে ঘর ভাড়া দেওয়া বাংলাদেশি মালিক এবং ভাড়া বাসায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের আটক করেছে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।