বন্যাদুর্গত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আনন্দ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগ

বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আনন্দ ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির উদ্যোগে সোমবার (২৭ জুলাই) বান্দরবান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকায় বন্যা-পরবর্তী ত্রাণসহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১০টি পরিবারের মাঝে চাল, মুড়ি, আলু, ডাল, তেল, লবণ ও পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাসিং প্রু জেরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মানুষের দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবসেবা। আনন্দ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সমাজের অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিত্তবানদেরও এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “বন্যার পর বিভিন্ন রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে মা-বোনদের পরিবারের সদস্যদের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ পানি পান, হাত ধোয়ার অভ্যাস, খাবার ঢেকে রাখা এবং চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর ওসমান গণি। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আনন্দ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মোর্শেদুল আলম, রিফাত সাব্বির ও জয় বড়ুয়া বাপ্পি; প্রবীণ মুরব্বি লোকমান হাকিম; সংগঠনের সভাপতি সাঈদ হোসাইন ইমন, সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন নবাব, সাধারণ সম্পাদক তামজিদুল হাসান আলিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাকিম রাকিব, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ বাপ্পি এবং অর্থ সম্পাদক সাদেক হোসেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আনন্দ ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক জোবায়ের হোসাইন।
বক্তারা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল একটি মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি সামাজিক অঙ্গীকার। আনন্দ ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও শিক্ষা, মানবসেবা ও দুর্যোগ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
ত্রাণ পেয়ে উপকারভোগীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষায়, দুর্যোগ-পরবর্তী এই সহায়তা কেবল খাদ্যসহায়তাই নয়, বরং সংকটময় সময়ে পাশে থাকার একটি সাহস ও মানবিকতার বার্তা।











