বন্যায় কেড়ে নিল ৩ পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

বন্যায় কেড়ে নিল ৩ পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন

বন্যায় কেড়ে নিল ৩ পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন
ছবি সংগৃহীত।

সম্প্রতি চকরিয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা ও টানা ভারী বর্ষণে বহু বাড়িঘর, মৎস্য প্রকল্প, সবজি ক্ষেত ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে প্রাণহানির পাশাপাশি অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের শেষ আশ্রয়স্থলও। এমনই তিনটি পরিবারের করুণ চিত্র উঠে এসেছে কাকারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।


কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকার দিনমজুর মিজানুর রহমান বন্যায় হারিয়েছেন তার শেষ সম্বল ঘরটি। তিন সন্তানসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে বর্তমানে তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। টানা বৃষ্টি ও বন্যার সময় কোমরসমান পানিতে ডুবে ছিল তার বসতঘর। পানি নেমে গেলেও ঘরটি আর টেকেনি।

মিজানুর রহমানের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী দিনমজুর। দিনে এনে দিনে খাই। বন্যা আমাদের মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁইটুকুও কেড়ে নিয়েছে।


অন্যদিকে কাকারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী এলাকার আবু সাঈদ মাটির তৈরি ঘর অতিবৃষ্টিতে ধসে পড়ে। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি এখন অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন।


এছাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জসিম উদ্দিনের পাকা ঘর পাহাড়ধসে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত। আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী জসিম পেশায় টমটম চালক।


জসিম উদ্দিন বলেন, মাত্র সাত-আট মাস আগে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ঘরটি নির্মাণ করেছিলাম। পাহাড়ধসে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না।


ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্থানীয়ভাবে কিছু ত্রাণ সহায়তা পেলেও স্থায়ী আবাসনের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। ফলে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। কিছু পরিবারকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নির্ধারিত ফরমেটে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।