বাঁশখালী আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে মরিয়া এলডিপি প্রার্থী কফিল উদ্দিন চৌধুরীর জোর তৎপরতা

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে কর্নেল অলি আহমেদ ঘোষিত এলডিপি প্রার্থী, সাবেক পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী প্রতিনিয়ত জনসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। খ্যাতিমান এই আইনজীবী এলডিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হিসেবে কর্নেল অলি আহমদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন। সেই প্রেক্ষিতে আসনটিতে বিএনপির সমর্থন আদায়ে এলডিপি জোর লবিং ও প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাঁশখালী আসনে বিএনপির বিরোধ কাজে লাগিয়ে এলডিপিকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছে এলডিপি নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, গত মাসে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ সারা দেশে এলডিপির ৬০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে প্রার্থী করা হয় সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরীকে। ২০১৮ সালেও পিপি কফিল উদ্দিন এলডিপির প্রার্থী ছিলেন। সে সময় শেষ মুহূর্তে জোটের স্বার্থে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিল এলডিপি।
সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে এলডিপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাঁশখালীতে কাজ করছেন দলের প্রভাবশালী নেতা কফিল উদ্দিন চৌধুরী। এর আগেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কফিল উদ্দিন চৌধুরী এলাকায় নানা সামাজিক কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। নিজ এলাকা চাঁপাছড়িতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেছেন উচ্চ বিদ্যালয় ও মসজিদ। তা ছাড়া বাঁশখালীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পিপি কফিল উদ্দিন চৌধুরী দান, অনুদান এবং নিয়মিত সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।
এলডিপির বাঁশখালী পৌরসভা সভাপতি আনিসুর রহমান জানান, এলডিপির জোটসঙ্গী বিএনপি ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও কুমিল্লায় দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদের আসনে প্রার্থী না দিয়ে এলডিপিকে সমর্থন দিয়েছে। আরও কয়েকটি আসনে এলডিপির সমর্থন আদায়ে বিএনপির সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে দেনদরবার চলছে। তিনি জানান, আর ২-৩টি আসন এলডিপির জন্য বৃদ্ধি পেলেই বাঁশখালী আসন সেখানে থাকবে। তা ছাড়া বাঁশখালীতে এলডিপিকে সমর্থন দিলে বিএনপির বিরোধও মিটে যাবে।
এই বিষয়ে অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী জানান, দল থেকে ইতিমধ্যেই আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এলডিপি বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘদিনের সঙ্গী। সেই হিসেবে চন্দনাইশ, কুমিল্লার মতো বাঁশখালী আসনটি এলডিপিকে ছেড়ে দিতে দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে দলের পক্ষ থেকে বিএনপিকে তালিকা দেওয়া হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে। এর বাইরেও আমি প্রতিদিন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় যাচ্ছি। জনগণের প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। তিনি জানান, বাঁশখালীর অধিকাংশ উন্নয়ন, যেমন—ব্রিজ, কালভার্ট, সড়ক ও রাস্তা কর্নেল অলির হাত দিয়ে গড়া। সে জন্য মানুষ কর্নেল অলি আহমদের প্রার্থী হিসেবে আলাদা সম্মান ও কদর করে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলডিপি প্রার্থী কফিল উদ্দিন চৌধুরী নিজ বাড়ি বাহারছড়া ইউনিয়নের চাঁপাছড়িতে এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেছেন। সেখানে বিভিন্ন দলের ব্যক্তিরাও অংশ নেন। তা ছাড়া, কাথরিয়া, পুকুরিয়া, বৈলছড়ি, পুঁইছড়ি, খানখানাবাদ, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া বশিরুল্লাহ মিয়াজী বাজার ও পৌর সদরেও গণসংযোগ এবং তৎপরতা চালিয়েছেন। তার পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে বাঁশখালীর প্রতিটি বাজার ও অলিগলি।
শেষ পর্যন্ত এলডিপি নেতা কফিল উদ্দিন চৌধুরী প্রার্থী হলে উপকূলীয় এলাকায় তার পক্ষে বেশ প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।











