বাঁশখালী আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে মরিয়া এলডিপি প্রার্থী কফিল উদ্দিন চৌধুরীর জোর তৎপরতা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন

বাঁশখালী আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে মরিয়া এলডিপি প্রার্থী কফিল উদ্দিন চৌধুরীর জোর তৎপরতা

বাঁশখালী আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে মরিয়া এলডিপি প্রার্থী কফিল উদ্দিন চৌধুরীর জোর তৎপরতা
এলডিপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে কর্নেল অলি আহমেদ ঘোষিত এলডিপি প্রার্থী, সাবেক পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী প্রতিনিয়ত জনসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। খ্যাতিমান এই আইনজীবী এলডিপির চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হিসেবে কর্নেল অলি আহমদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন। সেই প্রেক্ষিতে আসনটিতে বিএনপির সমর্থন আদায়ে এলডিপি জোর লবিং ও প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাঁশখালী আসনে বিএনপির বিরোধ কাজে লাগিয়ে এলডিপিকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছে এলডিপি নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, গত মাসে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ সারা দেশে এলডিপির ৬০টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে প্রার্থী করা হয় সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরীকে। ২০১৮ সালেও পিপি কফিল উদ্দিন এলডিপির প্রার্থী ছিলেন। সে সময় শেষ মুহূর্তে জোটের স্বার্থে বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিল এলডিপি।

সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে এলডিপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাঁশখালীতে কাজ করছেন দলের প্রভাবশালী নেতা কফিল উদ্দিন চৌধুরী। এর আগেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কফিল উদ্দিন চৌধুরী এলাকায় নানা সামাজিক কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। নিজ এলাকা চাঁপাছড়িতে ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেছেন উচ্চ বিদ্যালয় ও মসজিদ। তা ছাড়া বাঁশখালীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পিপি কফিল উদ্দিন চৌধুরী দান, অনুদান এবং নিয়মিত সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

এলডিপির বাঁশখালী পৌরসভা সভাপতি আনিসুর রহমান জানান, এলডিপির জোটসঙ্গী বিএনপি ইতিমধ্যেই চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও কুমিল্লায় দলের মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমদের আসনে প্রার্থী না দিয়ে এলডিপিকে সমর্থন দিয়েছে। আরও কয়েকটি আসনে এলডিপির সমর্থন আদায়ে বিএনপির সঙ্গে কেন্দ্রীয়ভাবে দেনদরবার চলছে। তিনি জানান, আর ২-৩টি আসন এলডিপির জন্য বৃদ্ধি পেলেই বাঁশখালী আসন সেখানে থাকবে। তা ছাড়া বাঁশখালীতে এলডিপিকে সমর্থন দিলে বিএনপির বিরোধও মিটে যাবে।

এই বিষয়ে অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী জানান, দল থেকে ইতিমধ্যেই আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এলডিপি বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘদিনের সঙ্গী। সেই হিসেবে চন্দনাইশ, কুমিল্লার মতো বাঁশখালী আসনটি এলডিপিকে ছেড়ে দিতে দাবি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে দলের পক্ষ থেকে বিএনপিকে তালিকা দেওয়া হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে। এর বাইরেও আমি প্রতিদিন এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় যাচ্ছি। জনগণের প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। তিনি জানান, বাঁশখালীর অধিকাংশ উন্নয়ন, যেমন—ব্রিজ, কালভার্ট, সড়ক ও রাস্তা কর্নেল অলির হাত দিয়ে গড়া। সে জন্য মানুষ কর্নেল অলি আহমদের প্রার্থী হিসেবে আলাদা সম্মান ও কদর করে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এলডিপি প্রার্থী কফিল উদ্দিন চৌধুরী নিজ বাড়ি বাহারছড়া ইউনিয়নের চাঁপাছড়িতে এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেছেন। সেখানে বিভিন্ন দলের ব্যক্তিরাও অংশ নেন। তা ছাড়া, কাথরিয়া, পুকুরিয়া, বৈলছড়ি, পুঁইছড়ি, খানখানাবাদ, গন্ডামারা, সরল, বাহারছড়া বশিরুল্লাহ মিয়াজী বাজার ও পৌর সদরেও গণসংযোগ এবং তৎপরতা চালিয়েছেন। তার পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে বাঁশখালীর প্রতিটি বাজার ও অলিগলি।

শেষ পর্যন্ত এলডিপি নেতা কফিল উদ্দিন চৌধুরী প্রার্থী হলে উপকূলীয় এলাকায় তার পক্ষে বেশ প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা অ্যামচেমের

আগামী ৫ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশা অ্যামচেমের
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও এগিয়ে নিতে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আনতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অ্যামচেমের নেতারা এই প্রত্যাশার কথা জানান। অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামালের নেতৃত্বে সংগঠনটির নির্বাহী কমিটির একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়।

সাক্ষাৎকালে অ্যামচেম জানায়, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের কর রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে। বিগত বছরগুলোতে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করে প্রতিনিধিদল আরও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারের অংশীদারত্ব কামনা করে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের অগ্রগতির প্রশংসা করে অ্যামচেম। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সংস্কার প্যাকেজের আওতায় নির্ধারিত সময়ে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটাইজেশন, কমপ্লায়েন্সের চাপ কমানো, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো বাস্তবমুখী পদক্ষেপগুলোকে তারা স্বাগত জানায়।

পাশাপাশি অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নীতির স্পষ্টতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের ক্ষেত্রে পিডিপিএ ও এনডিজিএ প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন, এআই ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে অ্যামচেম প্রযুক্তি, এআই, ক্লাউড প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের মতো ক্ষেত্রগুলো নিয়ে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে এবং সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করার জন্য অ্যামচেমের পক্ষ থেকে 'ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজরি ফোরাম' বা টাস্কফোর্স এবং 'পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল' গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া ৩০তম ইউএস ট্রেড শো-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অ্যামচেমের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। নীতির স্পষ্টতা, দক্ষ প্রশাসন এবং ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে উল্লেখ করে তিনি সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে অ্যামচেমের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে অ্যামচেম প্রতিনিধিদলে সহসভাপতি আলা উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ রাসেল আল মামুন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, আতাউর রহিম চৌধুরী এবং নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ অংশ নেন।




চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুন্না, সদস্যসচিব জোবাইরুল

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুন্না, সদস্যসচিব জোবাইরুল
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে লায়ন এ এম মুন্না চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও জোবাইরুল আলম মানিককে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার শামসুল আলম; যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মোঃ আরিফুল ইসলাম, জয়নুল আবেদীন কায়সার, মোহাম্মদ সেলিম, আলাউদ্দিন মাসুদ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ কাইয়ুম; সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মোঃ মুশফিকুর রহমান চৌধুরী; যুগ্ম সদস্যসচিব যথাক্রমে মাওলানা আনাস মাহমুদ, আরিফুর রহমান, ফরিদুল আলম, মীর মনসুরুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, রোকজিনা আক্তার, জিয়াউল করিম, মোহাম্মদ আরজু, মোহাম্মদ ফারুক হোসেন, মোঃ নুরুল আমীন, মঈনুদ্দিন সাকিব; সাংগঠনিক সম্পাদক যথাক্রমে মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, সিফাত চৌধুরী; দপ্তর সম্পাদক ইরফান মাহমুদ আল সাঈদ; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আরমান উদ্দিন আজাদ; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান হোসেন তারা; জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল আলম; কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম; সমাজকল্যাণ সম্পাদক শেখ বদিউল আলম নোমান; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোঃ শাহরিয়ার ইমন; শিক্ষা‌বিষয়ক সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন শাকিল এবং নারীবিষয়ক সম্পাদক পদে ডালিয়া বড়ুয়া দায়িত্ব পেয়েছেন।

নবগঠিত কমিটির সদস্যসচিব জোবাইরুল আলম মানিক বলেন, "সংগঠনের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এ কমিটি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আগামীতে প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে আমাদের সদস্যরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখবেন।"




বাঁশখালীতে ছেলের হাতে বাবা খুন!

বাঁশখালীতে ছেলের হাতে বাবা খুন!
নিহত বাবা শাহজাহান ও তাঁর হত্যাকারী ছেলে মুহাম্মদ শওকত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহের জেরে ঘাতক ছেলের হাতে মোহাম্মদ শাহজাহান নামে এক বাবা খুন হয়েছেন। সোমবার রাতে উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোকদণ্ডী নিদাগাজী পাড়া এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হতভাগ্য বাবা প্রাণ হারিয়েছেন।

পারিবারিক কলহের জেরে সোমবার রাতে প্রবাসফেরত ঘাতক ছেলে মুহাম্মদ শওকত (২২) বাবার ওপর হামলা চালায়। এতে বাবা শাহজাহান মারাত্মকভাবে আহত হলে আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে শাহজাহান মারা যান। ছেলের হাতে বাবার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

জানা গেছে, ছেলে মুহাম্মদ শওকত প্রবাসে ছিলেন। সেখান থেকে পাঠোনো টাকায় বাড়িতে পাকা দালান তোলার কাজ শুরু হয়। পরে ছেলে অনলাইনে পরিচয়ের সূত্রে মা-বাবার অজান্তে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। ওই মেয়েকে নিয়ে শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। এর মধ্যে বন্যা শুরু হলে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসেন ছেলে। এ নিয়ে পিতা-পুত্রের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও বিবাদ হতো।

সোমবার রাতে বাবা ছেলেকে বিদেশ থেকে চলে আসার বিষয় নিয়ে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলে শওকত বাবার ওপর হামলা চালান। এলোপাতাড়ি মারধরে অজ্ঞান হয়ে যান বাবা শাহজাহান। স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাঁর আর জ্ঞান ফেরেনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বাবা শাহজাহান প্রাণ হারান।

বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘাতক ছেলেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।