বাঁশখালীতে অনড় নেজামে ইসলাম ও হাতপাখা, সংকটে জামায়াত জোটের একক প্রার্থিতা

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের একক প্রার্থিতা নিয়ে জটিলতা কাটছে না। জোটের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামকে সমর্থন দেওয়া হলেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি শরিক দল নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুছা বিন ইজহার। এদিকে ১১-দলীয় জোট ত্যাগ করে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে পুনরায় মাঠে নেমেছেন ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার। এর ফলে নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে চট্টগ্রাম-৯ ও ময়মনসিংহের গৌরীপুর আসন নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাঁশখালী আসনটি নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে দলটির ভেতরে। দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, অন্তত একটি আসন হিসেবে হলেও যেন বাঁশখালী আসনটি তাদের মহাসচিবকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই তারা চূড়ান্ত অবস্থান পরিষ্কার করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার শুক্রবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। বিভিন্ন ওলামা মাশায়েখ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি তার অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন। রুহুল্লাহ তালুকদার জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন এবং ইসলামপন্থী ভোটারদের সমর্থন নিয়ে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি নেজামে ইসলাম পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন উভয়ই ভোটের মাঠে অনড় থাকে, তবে ইসলামপন্থী ভোট ব্যাংক চরমভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে। এর ফলে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারেন বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলী।
আপাতত সবার নজর ২০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনের দিকে। ওই দিনই নিশ্চিত হওয়া যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদে ভোটের চূড়ান্ত লড়াই কাদের মধ্যে হচ্ছে।











