বাঁশখালীতে জামায়াত জোটে ঠাঁই হলো না নেজামে ইসলাম পার্টির মুছা বিন ইজহার

চট্টগ্রাম ১৬ বাঁশখালী আসনে জামায়াতে ইসলামী ঘোষিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জোট মনোনয়ন পায়নি বই প্রতীকের নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মুছা বিন ইজহার। বৃহস্পতিবার রাতে বাঁশখালী আসনে জামায়াতের মাওলানা জহিরুল ইসলামকে চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এতে হতাশা দেখা দিয়েছে নেজামে ইসলাম পার্টি ও কওমী সমর্থক নেতাকর্মীদের মাঝে।
নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী দলটির মহাসচিব হওয়ার পাশাপাশি জোটের লিয়াঁজো কমিটির সদস্য ছিলেন। সেই হিসেবে বাঁশখালী আসনটি মহাসচিব মুছা বিন ইজহারকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পযর্ন্ত তা হয়নি। নেজামে ইসলাম পার্টিকে নামকাওয়াস্তে চট্টগ্রাম ৯ ও ময়মনসিংহের গৌরিপুর আসন দেওয়া হলেও দলের আমির মহাসচিব মনোনয়ন না পাওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে।
এই পরিস্থিতিতে নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মুছা বিন ইজহার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন কিনা জানা যায়নি। একাধিকবার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নেজামে ইসলাম পার্টির বাঁশখালী উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা মহিউদ্দিন খান জসিম জানান, প্রার্থী ও দলের মহাসচিব এখনো ঢাকায় অবস্থান করছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন নাকি নির্বাচন করবেন সেটি ২০ জানুয়ারির মধ্যেই চুড়ান্ত হবে। তিনি জানান, দলের একজন মহাসচিব হয়েও জোট থেকে মূল্যায়ন না করা সত্যিই দুঃখজনক।
এদিকে নেজামে ইসলাম পার্টি ও কওমী মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, বাঁশখালী আসনে একসময় নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী এমপি ছিলেন। বাঁশখালীতে কওমী আলেমদের উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। আসনটি নেজামে ইসলাম পার্টিকে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে জামায়াত ভূল করেছে। তাদের অনেকেই আশংকা করে বলেন, এখন কওমী ও হেফাজত সমর্থিত আলেম ওলামারা বাঁশখালীতে জামায়াত প্রার্থীকে ভোট দেবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
সূত্র জানায়, বাঁশখালী আসনে জামায়াত জোট থেকে নেজামে ইসলাম পার্টি ছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রয়েছে। তারাও আসনটি পেতে চেষ্টা করেছিল। এখন জামায়াত- ইসলামী আন্দোলনের টানাপোড়নে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীও মাঠে থাকবে কিনা তা আজকের মধ্যেই জানা যাবে এমনটাই আভাস দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন নেতারা। আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সহ সভাপতি মাওলানা আতাউল্লাহ ইসলামাবাদী জানান, শুক্রবার ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন রয়েছে। এর পর জানা যাবে বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী থাকবে কি থাকবেনা। তিনি জানান, এখন পযর্ন্ত হাতপাখা এককভাবেই নির্বাচন করার প্রস্তুতি আছে।
বাঁশখালী আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তার বিরুদ্ধে দলের সাবেক জেলা যুগ্ম আহবায়ক লেয়াকত আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। জামায়াত জোটের প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জহিরুল ইসলাম। এই জোট থেকে এতদিন নেজামে ইসলাম পার্টির মুছা বিন ইজহার ও ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ মাওলানা রুহুল্লাহ তালুকদার প্রচারনা চালালেও বৃহস্পতিবার রাতে ১১ দলের জোট থেকে মাওলানা জহিরুল ইসলামকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এর বাইরে বাঁশখালীতে গণঅধিকার পরিষদের এ্যাডভোকেট আরিফুল হক তায়েফ, সুন্নী জোটের আবদুল মালেক আশরাফী, এলডিপির অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরীও মাঠে রয়েছেন।











