বাংলাদেশে আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না

বাংলাদেশে আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না
ছবি সংগৃহীত।

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চাই না। জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে ফ্যাসিবাদ বিদায় হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি এ দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না, বরদাশতও করবে না।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকালে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে ছাত্রদল হামলায় গুরুতর আহত হয়ে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানো কিশোর আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।  

এসময় তিনি আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার অগ্রগতি জানেন। তিনি আলিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় আমি পুনরায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

তিনি বলেন, যারা এ নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ পরিবর্তিত বাংলাদেশেও এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। 
তিনি বলেন, আমরা দেখতে চাই সরকার এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা যেই দলেরই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিচার চাইতে গিয়ে মামলা দায়ের করতেও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। বহু চেষ্টা-তদবিরের পর মামলা গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব আইনের শাসন নিশ্চিত করা। কিন্তু যদি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পেতেই সংগ্রাম করতে হয়, তাহলে জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা কীভাবে তৈরি হবে?

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার জনগণের নিরাপত্তার রক্ষক। কিন্তু যদি তারা সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের উদ্বেগ বাড়বে। আমরা ব্যর্থতার ব্যাখ্যা শুনতে চাই না; আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। সরকারকে কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে যে এই দেশ সকল নাগরিকের এবং আইন সবার জন্য সমান।

তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর দুর্নীতি ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া মন্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, যদি সরকারের ভেতর থেকেই বলা হয় যে দুর্নীতি বেড়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি, তাহলে জনগণের স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে-এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে কীভাবে? জনগণ অজুহাত নয়, কার্যকর ব্যবস্থা প্রত্যাশা করে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অথচ মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আহত আলিফের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই ছেলেটি কাউকে আক্রমণ করতে যায়নি। বরং সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই নির্মম হামলার শিকার হয়েছে। তার একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, নিন্দনীয় এবং কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে কারও ওপর হামলা হবে না। এখন পুরো জাতি অপেক্ষা করছে সরকার এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দলীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শেরেবাংলা নগর উত্তর থানা আমির আব্দুল আউয়াল আজম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) নেতা ডা. হাসান আল বান্না, জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ।




কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের
ছবি সংগৃহীত।

রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতার ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বৈঠক শেষে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে—রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে আমরা ১১ দলের পক্ষ থেকে অংশ নেব। আমরা প্রার্থী দেবো। যেহেতু ১১ দল আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি পার্লামেন্টে এবং বাইরে গণভোটের জন্য, সেই জায়গায় আমাদের কমন প্রার্থী থাকবে, ঐক্যবদ্ধ প্রার্থী থাকবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হবেন ১১ দলেরই শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। 
তিনি নারায়ণগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন, ছয়বার তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বীর বিক্রম মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। উনি ১১ দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী থাকবেন।

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১১ দলে আমরা মনে করি দেশের এই যে সংকট একটা চলছে, এই সময় দেশের যে ধরনের অভিভাবকত্ব প্রয়োজন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমরা মনে করি কর্নেল অলি আহমেদ উপযুক্ত এবং উনার অভিভাবকত্বে বা উনার নেতৃত্বে এই সংকটগুলো নিরসন হওয়া সম্ভব।’

আজ ১১ দলের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আলোচনায় অনেকগুলো বিষয় এসেছে। বিশেষত বিএনপি সরকারের নির্বাচন পরবর্তী তাদের যে অবস্থান, আমাদের গণভোট, জুলাই সনদ, সেই বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী সময়ে সরকারের দ্বিচারিতা।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার কমিশনের দীর্ঘদিন ধরে যে আলোচনা হয়েছিল, সেখানে কিন্তু রাষ্ট্রপতি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হবে, সেটার একটা নতুন ফর্মুলা প্রস্তাবিত হয়েছিল, যাতে আমরা সবাই মিলে একটা সর্বজনগ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারি। সেই নির্বাচন প্রক্রিয়াও সংশোধনের প্রস্তাব এসেছিল এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের জায়গায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে নির্বাচনের পরে আসলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে জুলাই সনদ অনুযায়ী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের গণভোটের যে ম্যান্ডেট জনগণ দিয়েছে, ৭০ শতাংশ জনগণ আমাদের দিয়েছিল। সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে। এর মধ্য দিয়ে আমরা নতুনভাবে সংস্কারকৃত সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে পারব। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সরকার গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে এবং তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়নের কোনো কিছু কোনো ধারাতেই নেই। সংস্কার পরিষদের শপথ তারা নেয়নি, অধিবেশন ডাকেনি এবং সব প্রতিষ্ঠানকে তারা দলীয়করণ করছে। নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করছে। আমাদের যে লড়াই ছিল, নিরপেক্ষ সরকার, নির্বাচন কমিশন, তা আমরা দেখলাম যে এই সরকারও আসলে পূর্ব স্বৈরতন্ত্রের পথে হাঁটছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কিন্তু প্রথম অধিবেশনের একদম প্রথম দিনই বলেছিলাম যে ফ্যাসিবাদের দোসর সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি থেকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়, জুলাই সনদ অনুসারে। সেই রাষ্ট্রপতিকে তারা ছয় মাস রেখে দিলো এবং তাকে এখনও কোনো ধরনের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। এটাও আমাদের কাছে সন্দেহজনক।’

তিনি আরও বলেন, আমরা জানি নির্বাচন-পরবর্তী পাঁচ বছর যখন অতিক্রম হবে, এই রাষ্ট্রপতি সে সময় থাকবেন এবং তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে হবে, এই রাষ্ট্রপতি যিনি রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন, হবেন, তার ভূমিকা কী হবে, এই পুরো বিষয়টা কিন্তু জাতির সামনে একটা সন্দেহ তৈরি করে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপির অধীনে ইতিহাসে আমরা দেখেছি, তারা সবসময় চেষ্টা করেছে এই ট্রানজিশনের সময়গুলো যাতে নিজেদের হাতে ক্ষমতা থাকে, সেটা তারা বিভিন্ন সময় চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশে অনেকগুলো রাজনৈতিক সাংবিধানিক সংকট তারা তৈরি করেছে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী বাস্তবে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিয়ম দেখে এসেছি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত সংখ্যাগরিষ্ঠ যারা থাকে, তাদের প্রাধান্য থাকে এবং তাদের ওই ভোটে কাস্টিং ভোটটাই মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়।’

তিনি বলেন, আমি মনে করি যে, এই অংশগ্রহণটাই একটা গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ। রাজনীতিতে গণতন্ত্রের জন্য আমরা মনে করি যে এই প্রক্রিয়াটা অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।’

এসময় বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামীর আমির ডা.  শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম

কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি কাঠামোগত সংস্কার না করা হয়, এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে। তাদের ভেতর সেই প্রবণতা আছে। এই সরকারকে বলব, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল দাবি যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, তাদের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্ট্রো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এক চিত্র প্রদর্শনীতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এটা আগেই বলেছি, এই কাঠামো, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন হবে না যদি গোড়ায় আমরা পরিবর্তন না করি। মৌলিক পরিবর্তন না করি। এটা কোনো ব্যক্তি, প্রধানের, সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় না।


এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকে আমরা ৭ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উদযাপন করলাম। এ বছর সেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে একটি আয়োজন করা হয়েছে।

নাহিদ বলেন, আমরা আজকের এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখেছি। যেটা ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ এবং সত্যিকার অর্থেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান শেষ হয়নি, পুরো চিত্র প্রদর্শনীতে সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রকল্প ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ঘাত-প্রতিঘাত, স্বৈরতন্ত্র, বাকশাল, ফ্যাসিবাদ সবকিছুকে অতিক্রম করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন মুক্তি এনে দিল এই দেশের মানুষকে, জনগণকে, আমরা আলোকচিত্রের মাধ্যমে সেই জিনিসটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা এই চিত্র প্রদর্শনী থেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার এবং যেটা আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোট আমাদের থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হলো, কেড়ে নিল এই সরকার। কিন্তু আমাদের যে অঙ্গীকার, জুলাইয়ের অঙ্গীকার হচ্ছে সংবিধান সংস্কার করা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কার করা। তো সেই লড়াইটা এখন আসলে রয়ে গিয়েছে। আমাদের আজকের চিত্র প্রদর্শনীর বার্তাটা হচ্ছে এটাই যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা যদি ধরে রাখতে চাই, তাহলে তার যে আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কারের সেই লড়াইটা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই সরকার নির্বাচিত হয়েছে। তারা দুইটা ভোটে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু একটা ভোটের ফলাফল তারা মানে নাই। আপনারা জানেন, গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

তিনি বলেন, এবারে যে সরকারিভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন হলো, আপনারা দেখেছেন সারাদেশে সেটার কী পরিস্থিতি। ইতিহাস বিকৃতি থেকে শুরু করে দলীয়করণ এবং সবকিছুই সেখানে আপনারা দেখবেন। কোনো ধরনের সার্বজনীন বক্তব্য নাই, অন্তর্ভুক্তিমূলক যে বাংলাদেশ, জুলাই যে সকলের, সেই বার্তাটা তারা দিচ্ছে না। তারা সবকিছুকে দলীয়করণ করছে। স্থানীয় সরকার প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী যেরকম দলীয়করণ করছে, একইভাবে ইতিহাসকে তারা দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে। যেভাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করার চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সারাদেশে ৫ আগস্ট কিন্তু দেখেছি, বিভিন্ন জেলায় যেসব সরকারি প্রোগ্রাম হয়েছে, সেখানে সরকার দলের বাইরে যেসব সমন্বয়ক বা জুলাই যোদ্ধা ছিল বা অন্য কোনো দলের মধ্যে থাকলে তাদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা অংশগ্রহণ করতে আসলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় হামলাও করা হয়েছে। এইভাবে যখন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবার উদযাপন করল এবং আমরা বলি, শুধু উদযাপনে না, এটা আসলে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, খুব সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষত ৫ আগস্ট দুঃখজনকভাবে আমরা দেখলাম যে দিল্লিতে বসে প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ পাচ্ছে পতিত স্বৈরাচার শক্তি। এটা তো হওয়ার ছিল। এটা যে হঠাৎ করে হয়ে গেছে, এরকম কিন্তু না। সরকারের জায়গা থেকে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে, কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই কিন্তু পতিত স্বৈরাচার শক্তি, ফ্যাসিবাদী শক্তি এটা করার সুযোগ পাচ্ছে।

আমরা বারবার বলেছি যে ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে, পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধের প্রশ্নে, আমরা কিন্তু জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে চাই। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা প্রেস রিলিজ দিয়ে বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে, এটাকে বলে বাগাড়ম্বর, চলতি ভাষায় আমরা বলি গলাবাজি।

তিনি বলেন, প্রেস রিলিজে, বক্তব্যে বড় বড় কথা বলতেছেন, কিন্তু আপনি কোনো কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এটা তো হওয়ার কথাই ছিল। তারা তো ঘোষণা দিয়েই এবং দিল্লি সরকার তাদেরকে সহযোগিতা করতেছে, ভারত সরকার সহযোগিতা করতেছে। ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডাকা উচিত ছিল সরকারের এবং ডেকে কঠোরভাবে এটার নিন্দা জানানো উচিত ছিল। পরবর্তীতে এই ধরনের ঘটনা হলে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, কোন ধরনের কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে, সেটা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার দলের বন্ধুরা বারবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলে, ফ্যাসিবাদের প্রশ্নেও তারা নাকি আছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সংস্কার প্রশ্নে যেরকম তারা জুলাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, বিচার প্রশ্নে এবং পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে ঠেকানোর প্রশ্নেও এই সরকার আসলে আপোষকামী সরকার। আপোষকামী হলে জনগণ তো বসে থাকবে না। এবং ১১ দলীয় ঐক্য আছে এবং যে সকল আরও সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে যারা সংস্কার এবং বিচার চায়, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধ করব, তার বিচার নিশ্চিত করব এবং যে সংস্কার, গণভোটের যে গণরায়, সেই রায় অনুযায়ী আমরা কাজ করব।

নাহিদ বলেন, সরকার যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে, এই কমিটি করে সরকার লেজিটিমেসি হারিয়েছে। যে কোনো ধরনের পরিবর্তন যে তারা করতে চায় না এবং তাদের যে জনগণের আস্থা, সে আস্থাটি হারিয়েছে। ফলে সাংবিধানিক একটি সংকট তৈরি হয়েছে এবং সংকট তৈরি হয়েছে জনগণের আস্থা তারা হারিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা যখন একটা সরকার হারায়, তখন তাদের টিকে থাকতে হয় ক্ষমতার দাপট এবং সন্ত্রাসের ওপর ভিত্তি করে। আর সেটা কিন্তু সেই চিত্র বিগত ১৬ বছরে যেরকম আমরা দেখেছি, এখন কিন্তু আমরা দেখছি এই সরকার সেটা শুরু করেছে। শুরু করেছে ক্যাম্পাসগুলোর মাধ্যমে। কারণ, যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় ভূমিকা, আন্দোলনের দুর্গ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো। ফলে ছাত্রনেতাদের ওপর, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ এবং ১১ দলের পক্ষে যেসব ছাত্রনেতারা রয়েছেন, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন শক্তিকে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছে না। তারা আক্রমণ করছে নির্বিচারে।

এসময় এনসিপি ও জামায়াত ইসলামি র্শীষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 
 




গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল

গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
ছবি সংগৃহীত।

গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে—বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যেভাবে চায় সেভাবে দেশ চালানো। আপনার চিন্তা-ভাবনা, চলাফেরা সবকিছুতে গণতন্ত্র না থাকলে মনে করতে হবে, তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘তিন-চার মাস না যেতেই আমরা রাস্তায় নেমে গেছি। সরকারকে ব্যর্থ বলে তাকে ৫ বছর যেতে দেবো না বলছি—এগুলো ফ্যাসিস্টের ভাষা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে তো গণতন্ত্র যাই না। আওয়ামী লীগ মুখে বলেছে গণতন্ত্র, কিন্তু কাজ করেছে উল্টো।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের নাম বলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস করে দিয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘টেকসই গণতন্ত্রের জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে হাজার বছর লেগেছে। কিন্তু আমরা অস্থির।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবাই চাই চমৎকার একটি গণমাধ্যম থাকবে, আলোচনা-সমালোচনা সবই হবে। তবে টকশোতে আলোচনা শুনলে মনে হয়, সরকার চরম ব্যর্থ, দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে।’