বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম চলছে, দিল্লিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম চলছে, দিল্লিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি

বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম চলছে, দিল্লিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি
ছবি সংগৃহীত।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের কার্যক্রম বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে চলছে বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটির হামলার পর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের সম্ভাব্য কার্যক্রম ইসরায়েল পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির জ্যেষ্ঠ নির্বাহী সম্পাদক আদিত্য রাজ কাউলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব দাবি করেছেন তিনি।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে চরমপন্থী প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি ওই রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ ও চরমপন্থা মোকাবিলায় ইসলামাবাদের প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে সেতু হিসেবে কাজ করার জন্য পাকিস্তানের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রিউভেন আজার বলেন, ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং তাদের কূটনৈতিক অবস্থানকে সতর্কতার সঙ্গে দেখে। ইসলামাবাদ নিজেকে আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টার অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে এবং একই সঙ্গে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া ও অঞ্চলের কিছু অংশে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ নিয়ে নজরদারির মুখোমুখি হচ্ছে। এর মাঝেই ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এসব মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‌‌‘‘এমন কিছু দেশ আছে যারা মনে করে, শান্তি মানে এমন এক পরিস্থিতির প্রচার করা, যেখানে ইসরায়েলের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।’’ রিউভেন আজার বলেন, শান্তির বিষয়ে ইসরায়েলের ধারণা অঞ্চলের কিছু পক্ষের চেয়ে মৌলিকভাবেই আলাদা। এছাড়া কেবল পাকিস্তানের উদ্দেশ্য নিয়েই যে ইসরায়েল প্রশ্ন তুলছে তা নয়; আঞ্চলিক বিষয়ে কাতারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি এই রাষ্ট্রদূতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দাবিটি ছিল হামাসকে কেন্দ্র করে। আজারের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের সম্ভাব্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল। কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ্যে থাকা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলে স্বীকার করলেও তিনি বলেছেন, এর বাইরেও কিছু কার্যক্রম থাকতে পারে; যা জনসাধারণের নজরের আড়ালে রয়েছে।

আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছি মন্তব্য করে রিউভেন আজার বলেন, চরমপন্থী সংগঠনগুলো ৭ অক্টোবরের হামলাকে অন্য জায়গায় কার্যক্রম চালানোর একটি মডেল কিংবা উদাহরণ হিসেবে দেখতে পারে। এই বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি ওই অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইসরায়েল তাদের এই উদ্বেগের কথা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছে।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বলেন, চরমপন্থী আন্দোলনের ওপর নজর রাখেন এমন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা ও ব্রিফিংয়ের জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে উৎসাহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কট্টরপন্থী নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য বিস্তার একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ।

আজহার পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থার কিছু অংশের বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষী মনোভাবকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কিছু মন্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য ইসরায়েল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গির অর্থপূর্ণ পরিবর্তনের ওপর আস্থা রাখার সুযোগ কমিয়ে দেয়।

ইরানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎকার নিয়েছে এনডিটিভি। আঞ্চলিক কূটনীতি এবং তেহরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে আজার বলেন, ইরানকে যুক্ত করে হওয়া যেকোনও চুক্তি যেন নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং আঞ্চলিক হুমকিগুলোর সমাধান করে, সেদিকেই ইসরায়েলের মূল মনোযোগ রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি।




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি