বাইশারীর আজিজ খলিফার মৃত্যু: সংখ্যালঘু কাপড় ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম উদয়ন ধরকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্...
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

বাইশারীর আজিজ খলিফার মৃত্যু: সংখ্যালঘু কাপড় ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম উদয়ন ধরকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা

বাইশারীর আজিজ খলিফার মৃত্যু: সংখ্যালঘু কাপড় ব্যবসায়ী ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম উদয়ন ধরকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের বাইশারী বাজারের প্রতিষ্ঠিত কাপড় ব্যবসায়ী ও বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উদয়ন ধরকে পরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো হত্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্টের মন্তব্য ও মানুষের আবেগকে পুঁজি করে এই মামলায় তাঁকে আসামি করার জন্য একটি মহল চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে সংখ্যালঘু এই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারটি বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী উদয়ন ধর শনিবার সকাল থেকে নিজের কাপড়ের দোকানটি বন্ধ করে এলাকাছাড়া হয়েছেন। ঈদের এই ভরা মৌসুমে বেচাকেনা বন্ধ থাকায় তিনি বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জানা গেছে, আজিজ খলিফা পেশায় একজন দর্জি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা ধরনের কাজ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি উদয়ন ধরের কাপড়ের দোকানের সামনে সেলাইয়ের কাজ করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর দুই স্ত্রী রয়েছে এবং তিনি ব্যাংকঋণগ্রস্ত ছিলেন বলেও জানা যায়। কিছুদিন আগে তিনি অসুস্থ হন। পরে রেললাইনে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২৩ মে শনিবার তিনি মারা যান। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, আবদুল আজিজ স্বাভাবিকভাবে মারা যাননি; তাঁকে উদয়ন ধরের মাধ্যমে বা তাঁর যোগসাজশে মেরে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, উদয়ন ধর দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অত্যন্ত সততা ও সুনামের সাথে বাইশারী বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করছেন। তিনি কখনো কাউকে খুন করতে পারেন না, কোনো প্রতারণাও করতে পারেন না। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রজেন্দ্র ধরের ছেলে। উদয়ন ধর সংখ্যালঘু হওয়ায় তাঁকে ফাঁসিয়ে ফায়দা লুটার জন্য একটি কুচক্রী মহল এই ষড়যন্ত্র করছে।

যেভাবে আহত হন আজিজ খলিফা: 

ঈদগাঁও এলাকার সাংবাদিক আবু বক্কর গত বুধবার 'ভয়েস ঈদগাঁও' নামের একটি ফেসবুক পেজে লেখেন, রেললাইন পরিদর্শনকারী গ্যাংকারের ধাক্কায় এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২০ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, রেললাইন পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গ্যাংকারটি কক্সবাজার থেকে ঈদগাঁও ইসলামাবাদ রেল স্টেশনের দিকে আসছিল। এ সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়েন। বিষয়টি বুঝতে পেরে গ্যাংকারের চালক ব্রেক চেপে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি। এতে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে গ্যাংকারে থাকা রেল কর্তৃপক্ষ আহত ব্যক্তিকে ঈদগাঁও রেলস্টেশন সংলগ্ন আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরে ক্যাম্প কমান্ডার বিষয়টি অবগত হলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে তাঁকে ঈদগাঁও মডেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

আহত ব্যক্তির নাম আজিজ বলে জানা গেছে। তিনি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের আলী আকবরের ছেলে।

এ বিষয়ে ইসলামাবাদ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান চৌধুরী জানান, “রামু ও ইসলামাবাদ রেল স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে এক ব্যক্তি রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়েন। গ্যাংকারের চালক তাঁকে দেখতে পেয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি। পরে আহত ব্যক্তিকে গ্যাংকারযোগে ইসলামাবাদ রেলস্টেশনে আনা হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।”

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে এই প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে উপরোক্ত তথ্যের হুবহু মিল খুঁজে পান। এদিকে আহত আজিজ খলিফা শনিবার সকালে নিজ বাড়িতে মারা যান।

এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে একদল সাংবাদিক বাইশারীসহ বেশ কয়েকটি স্পটে যান এবং অনুসন্ধান চালান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ৪০ বছর ধরে উদয়ন ধর এখানে কাপড়ের ব্যবসা করছেন। আর আজিজ খলিফা উদয়নের কাপড়ের দোকানের সামনে সেলাইয়ের কাজ করতেন। আজিজ খলিফা দীর্ঘদিন বাইশারীতে আছেন। প্রথমে দর্জি ব্যবসা করলেও পরে মেকানিক হন, তারপর ডেকোরেশনের দোকান দেন। সর্বশেষ আবারো দর্জি পেশায় ফিরে আসেন। এরই মধ্যে তিনি বেবী নামের এক নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। স্থানীয়দের দাবি, নিহত আজিজ খলিফা উদয়নের অগোচরে জনৈক রশিদের সাথে নিয়মিত মোবাইল জুয়া বা ক্যাসিনো খেলতেন। তবে এ নিয়ে নিহত আজিজ খলিফা আর কাপড় ব্যবসায়ী উদয়ন ধরের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ দেখেননি স্থানীয়রা; বরং তাঁদের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল।

তবে আবদুল আজিজ আহত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানাভাবে অনেকে প্রচার করছেন যে, আজিজ খলিফা ব্যবসায়ী উদয়ন ধরের কাছে টাকা পাওনা ছিলেন। কেউ বলছেন ১ লাখ টাকা, আবার কেউ বলছেন ৬ লাখ টাকা। কিন্তু আজিজ খলিফার দ্বিতীয় স্ত্রী বেবী সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর স্বামী উদয়নের কাছে টাকা পেতেন—এ কথা সত্যি হলেও তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে উদয়ন ধর এই প্রতিবেদককে হলফ করে বলেন, "আজিজ খলিফা আমার কাছে কোনো টাকা পেতেন না। বরং খলিফার বিপদে-আপদে আমিই তাকে নানাভাবে সহায়তা করতাম।"

বাইশারী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল করিম বান্টু বলেন, "উদয়ন ধর একজন সাদা মনের মানুষ। আজিজ খলিফা কখনো বলেননি যে উদয়ন ধরের কাছে তাঁর টাকা পাওনা আছে। এমনকি অন্য কারও কাছ থেকেও আমি এমন কথা শুনিনি। উদয়ন এমন মানুষ নন।"同じ বক্তব্য দেন বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুবেল। তিনি বলেন, "বিষয়টি বোঝা মুশকিল। কারণ উদয়ন কখনো খারাপ চরিত্রের মানুষ ছিলেন না।"

স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক আবদুল হামিদ বলেন, "উদয়ন ধর একজন খুবই ভালো মানুষ। তাঁকে ৪০ বছর ধরে দেখে আসছি। তিনি কখনো কারো ক্ষতি করেননি, করতেও পারেন না। আজিজ খলিফার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে আমি সন্দিহান।"

বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "দুর্ঘটনা ঘটেছে ঈদগাঁওতে, আর ভিকটিমের বাড়ি বাইশারীতে। সব মিলিয়ে ঘটনাটি বেশ রহস্যজনক।"




নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

নাইক্ষ্যংছড়িতে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ইজিবাইকসহ ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বেলা আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সদর থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে আম্মাজান কমিউনিটি সেন্টারের কাছে সেতুসংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহজনক একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইককে ধাওয়া করা হলে চালক ও ইয়াবা বহনকারী ব্যক্তি ইজিবাইক এবং সঙ্গে থাকা ইয়াবা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ইজিবাইকসহ তিন কার্টনে ৩০ হাজার ১০০ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবা ও ইজিবাইক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ

এসএসসিতে এফসিএইচ-এর বাজিমাত, ভালো ফলাফলে উৎসবের আমেজ
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বান্দরবানের বেসরকারি কোচিং প্রতিষ্ঠান 'ফারুক কোচিং হোম' (এফসিএইচ)-এর শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। এবারের পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এফসিএইচ-এ তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের পর অনেক শিক্ষার্থী তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করে। কেউ কেউ মিষ্টি নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার আন্তরিক সম্পর্কের চিত্র ফুটে ওঠে।

এফসিএইচ-এর সংশ্লিষ্টরা জানান, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, নিয়মিত পড়াশোনার তদারকি এবং এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গোলাম ফারুক বলেন, “একজন শিক্ষক হিসেবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের দিনে শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখার চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না। তাদের সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ ও অর্জন। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অভিভাবকদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর রহমত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করানো নয়; শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য যোগ্য, সৎ ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। তারা জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় যেন সফল হতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এফসিএইচ-এর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পরিচর্যা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো ফলাফলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এদিকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় এফসিএইচ-এর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল ও একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আগামী দিনেও শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ফারুক কোচিং হোম।




লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫

লামায় অভাবনীয় সাফল্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। সারাদেশে ফলাফল বিপর্যয়ের মাঝে প্রতিবারের মতো এবারও নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে উপজেলার মধ্যে জিপিএ-৫ এবং পাসের হারে শীর্ষ স্থান বজায় রেখেছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এসএসসি (মাধ্যমিক) শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭১ জন শিক্ষার্থী সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ১৩ জন শিক্ষার্থী এবং পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৪.৬৭ শতাংশ।

পুরো লামা উপজেলায় মাধ্যমিক শাখায় সর্বমোট ২৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (১৩ জন) পেয়েছে একাই কোয়ান্টাম কসমো স্কুল।

এছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল শাখায় কোয়ান্টাম কসমো স্কুল থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন পাস করেছে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন এবং পাসের হার ৯৪.২০ শতাংশ।

উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলে দেখা যায়, এসএসসি মাধ্যমিক শাখায় ১,১১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫২৫ জন (পাসের হার ৪৭.০৯ শতাংশ), দাখিল শাখায় ১২৩ জনের মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৪৭.১৫ শতাংশ) এবং কারিগরি/ভোকেশনাল শাখায় ১১৬ জনের মধ্যে ৯৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে (পাসের হার ৮২.৭৬ শতাংশ)।

কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের এই ধারাবাহিক ও অভাবনীয় ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আলো ছড়িয়ে লামার সুনাম দেশজুড়ে উজ্জ্বল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বিদ্যালয়টি।

অন্যদিকে লামা উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়নে অবস্থিত লামা স্বপ্নকানন বিদ্যাপীঠ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষজনক সাফল্য অর্জন করেছে। নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে বিদ্যালয়টির মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৬ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৭৬.৪৭ শতাংশ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা, শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবারের এসএসসি ফলাফল সেই প্রচেষ্টারই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।