বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নেই সাতকানিয়ার তারকা নেতারা

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন সাতকানিয়ার গারাঙ্গিয়া দরবারের প্রাণপুরুষগণের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এ উপজেলায় প্রথম নির্বাচনী সফর সম্পন্ন করেছেন।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তিনি দরবারে গারাঙ্গিয়ায় উপস্থিত হন। এ সময় তাঁর সাথে লোহাগাড়ার বাসিন্দা এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ৩ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী, সাতকানিয়ার বাসিন্দা এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ২৮ নম্বর সদস্য শেফায়েত উল্লাহ চক্ষু, সাবেক পৌর কাউন্সিলর নওয়াব মিয়াসহ কয়েকজন নেতা-কর্মী উপস্থিত থাকলেও বিগত আওয়ামী আমলে দলের চাকা সচল রাখা নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি।
বিগত সময়ের তথ্য মতে, সাতকানিয়ার যে সকল বিএনপি নেতা আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তাঁদের অনেকেই পাশে ছিলেন না।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সাতকানিয়ার বিএনপি নেতা জামাল হোসেন, মুজিবুর রহমান, শেখ মো. মহিউদ্দিন, হাজি রফিকুল আলম, শেফায়েত উল্লাহ চক্ষুসহ আরও অনেক নেতা ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তাঁরা কম-বেশি নির্যাতিত হয়েছেন। তাঁদের সাথে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেক কর্মী-সমর্থক।
তথ্যমতে, সাতকানিয়া উপজেলায় জামাল হোসেন, মুজিবুর রহমান ও শেখ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে ৩টি গ্রুপ বহু বছর ধরে সক্রিয় ছিল। তাঁরা তিনজনই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। শেফায়েত উল্লাহ চক্ষুর নেতৃত্বে পরে আরও একটি গ্রুপ সক্রিয় হয়। তিনি উপজেলা সভাপতির পদ প্রত্যাশী। গত বছরের ৫ আগস্টের পর আরও কিছু নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মী সক্রিয় হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সাতকানিয়ার ৩ হেভিওয়েট নেতা মনোনয়নের জন্য তুমুল চেষ্টা চালান। তাঁদের যে কোনো একজনকে দিলেও সবাই একাট্টা হয়ে কাজের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের সবার পাকা ধানে মই দিয়ে প্রার্থী মনোনীত করা হয় লোহাগাড়ার বাসিন্দা এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১২ নম্বর সদস্য নাজমুল মোস্তফা আমিনকে। এতে সাতকানিয়ার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং তাঁদের অনুসারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের অনুসারীরা সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচির পাশাপাশি নাজমুল মোস্তফা আমিন এ অঞ্চলে ঢুকতে পারবেন কি না সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।
এটাকে হুমকি হিসেবে নিয়ে তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘনজনিত জরিমানার ঝুঁকি মাথায় নিয়েও শোডাউন করে শনিবার লোহাগাড়ায় যান। ফলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার মুখে পড়েন। তখনও সাতকানিয়ার সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে পাশে পাননি। সাতকানিয়ার প্রথম সফরেও দেখা মিলল না সিনিয়রদের।
এ বিষয়ে জানতে নাজমুল মোস্তফা আমিনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করা হলে তারেক নামের একজন নিজেকে পিএ (PA) পরিচয় দিয়ে বলেন, "প্রার্থী একটা ঘরোয়া বৈঠকে কথা বলছেন। তিনি ফ্রি (Free) হয়ে আপনাকে ব্যাক করবেন।"
পরে আর কথা বলা হয়নি। তাছাড়া সাতকানিয়ার অনুপস্থিত নেতৃবৃন্দকেও কানেক্ট (Connect) করা যায়নি।
ছবির ক্যাপশন : সাতকানিয়ার গারাঙ্গিয়ায় বড় হুজুর ও ছোট হুজুর রাহিমাহুমাল্লাহের কবর জিয়ারত করলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী।











