বিজিবিতে ৩ হাজার নবীন সৈনিকের শপথ: সাতকানিয়ায় রেকর্ড গড়া কুচকাওয়াজ সম্পন্ন

সীমান্তের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সদস্য পেশাদার জীবনে পদার্পণ করেছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ বর্ণাঢ্য সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নবীন সৈনিকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। বিজিবির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো একক ব্যাচে রেকর্ড সংখ্যক ৩ হাজার ২৩ জন (পুরুষ ২৯৫০ ও মহিলা ৭৩ জন) রিক্রুট তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ইতিহাস গড়লেন।
নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। সততা, বুদ্ধিমত্তা ও আনুগত্যের প্রতিফলন ঘটিয়ে বাহিনীর ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে হবে।" তিনি বিজিবির চার মূলনীতি—মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা—অনুসরণ করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা জাগ্রত থাকার আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বিজিটিসিএন্ডসি-র প্রশিক্ষণ সক্ষমতা সাধারণত ৭০০ থেকে ১০০০ জনের হলেও বর্তমান সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় ও বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে এই বিশাল সংখ্যক রিক্রুটের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে একটি মাইলফলক।
কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী রিক্রুটদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। ১০৪তম ব্যাচে সর্ববিষয়ে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন রিক্রুট আল ইমরান। এছাড়া শারীরিক উৎকর্ষতায় শপিকুল ইসলাম ও লুবনা খাতুন এবং শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হিসেবে শফিকুর রহমান তামিম ও নাহিদা আক্তার পুরস্কৃত হন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিএন্ডসি-র কমান্ড্যান্টসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মনোজ্ঞ ট্রিক ড্রিল ও ব্যান্ড ডিসপ্লের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।











