বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪০ দেশে আমাদের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে এই পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে। 
মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর সরকারগুলো কোনো ভেন্টিলেটর, মেশিন, ভ্যাকসিন দিয়ে যায়নি। এমনকি সিরিঞ্জও ছিল না। প্রাইভেট এন্টারপ্রেনারদের সহায়তায় হামের মতো বিপদগুলো মোকাবিলা করেছে সরকার।

‘হামের এন্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে’, যোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এছাড়া, ডেঙ্গুরোগীর চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ অনুদান হিসেবে আজ এক লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল স্টোরে ডেঙ্গুর এক লাখ স্যালাইন আছে, আর ২০ থেকে ২৫ হাজার স্যালাইন বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে। তবে, হঠাৎ আরও স্যালাইনের প্রয়োজন পড়তে পারে।

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজের জবাব দেওয়ার আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ সময় না দিলে তারা আদালতের সুবিধা নিতে পারে। এ জন্য আদ-দ্বীন হাসপাতালকে আরও দুদিন সময় দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তারা উত্তর দেবে। এরপর সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

তিনি বলেন, আইনানুগভাবে কী কী ব্যত্যয় ঘটেছে এবং কী ধরনের অপরাধ করেছে, এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসাপাতাল কর্তৃপক্ষ কাকে কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেবে, সেটি তাদের ব্যাপার। সরকার তার অবস্থানে ঠিক আছে। জনস্বার্থ সংরক্ষণ থেকে এক বিন্দু পিছপা হব না।

এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরপরও যারা আক্রান্ত হবেন, তাদের যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।  

জনস্বাস্থ্যকে পুনর্গঠন করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধান কর্মপন্থা হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে কাজ চলছে, সেখানে স্টেকহোল্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

‘ওষুধ শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পলিসি সাপোর্টের চিন্তা করছে সরকার। দেশের মানুষকে সঠিক ওষুধ, সঠিক মূল্য কিংবা বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।




ডেঙ্গু মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৫ লাখ কিট দিল যুক্তরাষ্ট্র

ডেঙ্গু মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৫ লাখ কিট দিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় রোগী শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত স্ট্রাইডস কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঁচ লাখ ডেঙ্গু এনএসআই র‍্যাপিড ডায়াগনস্টিক টেস্ট কিট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাজধানীর (১ অক্টোবর) কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে এসব কিট হস্তান্তর করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) তৃষিতা মওলা।

এ সময় ডেঙ্গু টেস্টিং কিটগুলো দ্রুত দেশজুড়ে বিতরণের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যানজট ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে হস্তান্তর অনুষ্ঠানটি কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজন করা হয়েছে। তবে হস্তান্তর করা সব কিট সরাসরি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) জমা হবে। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী দেশের সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে এসব কিট পৌঁছে দেওয়া হবে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নতুন পাওয়া কিটের পাশাপাশি সরকারি খাতেও বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গু অ্যান্টিজেন কিট ও আইভি স্যালাইন মজুত রয়েছে। ফলে দেশের যেকোনো অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভ্যাকসিন চালুর বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনটির ব্যয় বেশি হওয়ায় এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও গ্যাভির সঙ্গে আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান, মার্কিন দূতাবাস এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




দ্বিতীয় দফায় দেশব্যাপী ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান শুরু

দ্বিতীয় দফায় দেশব্যাপী ৩৪ লাখ শিশুকে হামের টিকাদান শুরু
ছবি সংগৃহীত।

দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রথম দফায় টিকার বাইরে থাকা প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার আওতায় আনতে দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। টিকাদানের এ ক্যাম্পেইন চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের পর নিয়মিত চার বছর পরপর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ ছিল। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ভাগ্যক্রমে কিংবা দুর্ভাগ্যবশত, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই চার বছরের খেসারত আমাদের ওপর এসে পড়েছে। আমাদের জাতিকে, আমাদের মায়েদের অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে, অনেক মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। এ জন্য আমি সত্যিই ব্যথিত।

বিভিন্ন মহামারিতে চিকিৎসকদের অবদানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসকেরা সব সংকট ও জরুরি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা আমাদের ডাক্তারদের কাছে ঋণী। করোনাকালে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় আমাদের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং শতাধিক চিকিৎসকের আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলক কম ছিল। এটি আমাদের নিজস্ব চিকিৎসকদের অবদান ও প্রচেষ্টার ফল।

তিনি আরও বলেন, পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে হাম থেকে নিউমোনিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় চিকিৎসকদের উদ্ভাবন ও সেবারও প্রশংসা করেন তিনি।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা গড়ে তোলা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। হাম ও অন্যান্য মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমাজের সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ এমআর টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। তবে ২৮ জুনের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে একই বয়সী ২ কোটি ২৩ লাখ শিশু অংশ নেওয়ায় প্রায় ৪৩ লাখ শিশু টিকার বাইরে থাকার বিষয়টি শনাক্ত হয়। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতেই দ্বিতীয় দফার এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।




আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান : টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে পরিবারে শিশুর লালন-পালন এবং মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সচেতনতা ও গুরুত্ব ছিল, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চর্চা অনেক ক্ষেত্রে কমে এসেছে। জন্মের পরপরই নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা, কর্মব্যস্ততা এবং পরিবর্তিত জীবনধারার কারণে অনেক মা শিশুকে প্রয়োজনীয় সময় মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারছেন না।

তিনি বলেন, আমরা আধুনিক হয়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নবজাতকের জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শালদুধ পান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

মন্ত্রী বলেন, মায়ের দুধ শিশুর সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি মায়ের স্নেহ, স্পর্শ ও মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। পরিবারে অশান্তি, অবহেলা কিংবা শিশুকে দীর্ঘসময় মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখার নেতিবাচক প্রভাব শিশুর আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ে।

সাম্প্রতিক হাম (মিজলস) পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়বে। অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সুষম খাদ্যের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিশুর খাদ্য হিসেবে মায়ের দুধের পরিবর্তে বাজারজাত বিকল্প খাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সুস্থ, সক্ষম ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যগত সুফল নিশ্চিত করতে এখনও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মিত ও সঠিকভাবে মাতৃদুগ্ধ পান করালে মায়েদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। তাই মাতৃদুগ্ধ পানের গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী।