ভাঙা বেড়িবাঁধে কুতুবদিয়ার দীর্ঘশ্বাস: প্রতিটি জোয়ারে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় কুতুবদিয়াবাসী
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন

ভাঙা বেড়িবাঁধে কুতুবদিয়ার দীর্ঘশ্বাস: প্রতিটি জোয়ারে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় কুতুবদিয়াবাসী

ভাঙা বেড়িবাঁধে কুতুবদিয়ার দীর্ঘশ্বাস: প্রতিটি জোয়ারে তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় কুতুবদিয়াবাসী
ছবি সংগৃহীত।

জোয়ারের পানি ঢোকার সময় ঘরের দরজা বন্ধ করেও লাভ হয় না। সাগরের লোনা পানি ভাঙা বেড়িবাঁধ পেরিয়ে মুহূর্তেই ঢুকে পড়ে বসতঘরে। খাট, আলমারি, রান্নাঘর, উঠান সবকিছু পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নেমে গেলেও থেকে যায় লবণের আস্তরণ, নষ্ট হয় ফসল, পুকুরের মাছ ও নলকূপের পানি। এমন বাস্তবতাই এখন কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার হাজারো মানুষের নিত্যদিনের জীবন।

বিশেষ করে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, কাহারপাড়া ও রোমাইপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিটি জোয়ারের সময় আতঙ্কে থাকেন তারা। রাতের জোয়ারে ঘুম ভেঙে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ঘর রক্ষা করা সম্ভব হয় না।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুতুবদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবদিয়া রক্ষা বাঁধ ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বর্তমানে ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। যা মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কোথাও শিশুদের কোলে নিয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটছেন মায়েরা, কোথাও বৃদ্ধরা কোমরপানি মাড়িয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেক পরিবার উঁচু মাচায় চুলা বসিয়ে রান্না করছে। আবার কেউ কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছেন।

পূর্ব তাবালেরচর এলাকার মৃত বদি আলমের স্ত্রী ছমুদা বেগম (৬৫) জানান, রবিবার জোয়ারের পানিতে তাঁর বসতঘর ভেঙে গেছে। এখন সে অন্যের বাড়িতে বসবাস করছেন। তিনি দ্রুত বেড়িবাঁধ মেরামত করার দাবী জানান।

তাবালেরচর এলাকার বাসিন্দা আবু তৈয়ব জানান, জোয়ারের পানিতে বসতঘর ভেঙে যাচ্ছে। আাগামী পূর্ণিমার জোয়ারের আগে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে তাবালেরচর বায়তুশ শরফ কবরস্থান সমুদ্রে বিলিন হয়ে যাবে বলে তিনি আশংকা করেন।

আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের ইউপি  সাহাব উদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা কাউছার হোছাইন রিপন, বড়ঘোপ ইউনিয়নের রোমাই পাড়া এলাকার জিয়াবুল, শুক্কুর, আলী হোছাইন অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর ভাঙা বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার না হওয়ায় প্রতি বর্ষা ও পূর্ণিমার জোয়ারে একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। তাদের মতে, সাময়িক মেরামত পরিস্থিতি সামাল দিলেও স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না।

আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান আকতার কামাল সিকদার বলেন, "ভাঙা বেড়িবাঁধের কারণে ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার জানিয়েছি। দ্রুত সংস্কার না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।"

বাপাউবোর কুতুবদিয়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: আতিকুল ইসলাম জানান,  কুতুবদিয়ায় ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন ভাবে ৫টি ঝুকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে, শীগ্রই কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মিজানুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আমরা একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাঙা অংশ দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কুতুবদিয়া-মহেশখালী আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহাফুজ উল্লাহ ফরিদ বলেন,কুতুবদিয়াবাসীর নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কুতুবদিয়ায় ১০টি পয়েন্টে ঠিকাদারের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। নতুন করে ৫টি পয়েন্টে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত কাজ শুরুর চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে ভাঙা বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক, যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারেন কুতুবদিয়ার হাজারো মানুষ এমন প্রত্যাশা দ্বীপবাসীর।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।