ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ: নথি জালিয়াতির মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার মিশন আওয়ামী লীগ নেতার
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ: নথি জালিয়াতির মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার মিশন আওয়ামী লীগ নেতার

ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ: নথি জালিয়াতির মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হওয়ার মিশন আওয়ামী লীগ নেতার
ছবি সংগৃহীত।

নথি জালিয়াতির মাধ্যমে কক্সবাজার সদরের ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের ‘প্যানেল চেয়ারম্যান’ পদ দখলে নিতে মরিয়া আওয়ামী লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন। ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন দপ্তরে দফায় দফায় আবেদনও করেছেন। এ নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন বহিষ্কৃত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই।

১৫ এপ্রিল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন আওয়ামী লীগ নেতা শাহাবুদ্দিন। একই আবেদন ২৪ আগস্ট জেলা প্রশাসকের নিকট করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কামাল উদ্দিন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রথম সভায় তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।

তবে দুই দিন পর, ২৩ সেপ্টেম্বর আবারও ডিসি বরাবর আবেদনে লিখেন, ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের পর শপথ গ্রহণ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হয় ফেব্রুয়ারি মাসে। আগের তিন আবেদনে প্রথম সভায় প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার দাবি করলেও মূলত তার আবেদনে উল্লেখিত তারিখটি প্রায় ৯ মাস পরের।

এদিকে সর্বশেষ আবেদন অনুযায়ী রিট করেন হাইকোর্টে। যেখানে ডিসি ও ইউএনও বরাবর আবেদন করা সব আবেদনপত্র যুক্ত করে দেন। হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিট পিটিশন নম্বর ১৬১৮৪/২০২৫। চলতি বছরের ২৮ অক্টোবরের রিটের শুনানিতে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও মোঃ আশিফ হাসানের আদালত রায় দেন যে, ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের বহিষ্কৃত ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা কামাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই হওয়ায় ক্ষমতা হারানোর পরও শাহাবুদ্দিনকে চেয়ারে বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যার ফলে ইউনিয়ন পরিষদের সভার বহিতে খাঁকা রাখা পৃষ্ঠায় মেম্বারদের স্বাক্ষর নিয়ে তাকে প্যানেল চেয়ারম্যান বানিয়েছেন বলে দাবি করেন।

কিন্তু আমাদের হাতে আসা কয়েকটি নথি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ মেম্বারগণ ২০২২ সালের ৮ মে ইউনিয়ন পরিষদে প্যানেল চেয়ারম্যান না থাকায় তৎকালীন ডিসি বরাবর প্যানেল চেয়ারম্যান দিতে আবেদন করেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেন, প্রথম সভা হয় ৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২২ইং তারিখে। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রথম সভার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্যানেল চেয়ারম্যান করার নিয়ম থাকলেও তিনি করেন নি এবং তারা আরো উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান কামাল সবার অগোচরে পছন্দের ব্যক্তিকে প্যানেল বানাতে চেষ্টা করছেন। এদিকে চেয়ারম্যান পদে বসতে মরিয়া শাহাবুদ্দিন হাইকোর্টে করা রিট আবেদনে ২৩ অক্টোবর প্রথম সভায় প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার দাবি করলেও মেম্বারদের আবেদন অনুযায়ী জানা যায় প্রথম সভা হয়েছে মূলত ৭ই ফেব্রুয়ারি।

এদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার তৎকালীন ইউএনও মোহাম্মদ জাকারিয়া নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি মেম্বারদের স্বাক্ষরযুক্ত কিন্তু বর্ণনা ও তারিখবিহীন বেশ কিছু সভার কার্যবিবরণী খাতা জব্দ করেন। যা তিনি স্মারক ১১১০/২০২২ মূলে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি মেম্বার বলেন, শাহাবুদ্দিনকে চেয়ারম্যান বানানোর মিশন মূলত আওয়ামী লীগের। কারণ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি কমল ইতিমধ্যে মেম্বারদের ফোনে অনুরোধ করেছেন শাহাবুদ্দিনকে প্যানেল বানাতে।

এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ৩৩ ধারার ৫ উপধারা অনুযায়ী সদস্যদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যানের প্যানেল গঠন করা সম্ভব না হয়, তাহলে সরকার প্রয়োজনে সদস্যদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যানের প্যানেল তৈরি করতে পারবে। এবং এই ধারা অনুযায়ী বর্তমান এমইউপি মোঃ ফজলুল হককে প্যানেল চেয়ারম্যান বানাতে চলতি বছরের ১০ আগস্ট ১০ জন মেম্বারের স্বাক্ষর দিয়ে ডিসি বরাবর আবেদন করেন। সেই ১০ মেম্বারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ফজলুল হক মেম্বারকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদানের নিমিত্তে ইউএনওকে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে অনুরোধ করেন জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী কমিশনার ইরফান উল হাসান চিঠি দেন। চিঠির প্রেক্ষিতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ১৭ সেপ্টেম্বর ডিসি বরাবর মতামতসহ প্রতিবেদন দেন। যেখানে তিনি ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এমইউপি ফজলুল হককে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে দেওয়া যেতে পারে মর্মে মতামত দেন। এরপর থেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন শাহাবুদ্দিন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।