ভেনেজুয়েলার মতো পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না, হুঁশিয়ারি মেক্সিকোর
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন

ভেনেজুয়েলার মতো পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না, হুঁশিয়ারি মেক্সিকোর

ভেনেজুয়েলার মতো পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না, হুঁশিয়ারি মেক্সিকোর
ছবি সংগৃহীত।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর মেক্সিকোর সরকার ব্যাপক কূটনৈতিক ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর এবারই প্রথম এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে দেশটি। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের তীব্র নিন্দা জানালেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছে দেশটি; যাতে মেক্সিকো পরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়।

শনিবার মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেক্সিকোর ভেতরে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মাদক কার্টেলগুলো দেশটি চালাচ্ছে এবং মেক্সিকো নিয়ে কিছু একটা করতেই হবে।

এসব ঘটনায় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম স্পষ্টতই অস্বস্তিতে পড়েছেন। সোমবার সকালের দিকে দৈনিক সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন ভেনেজুয়েলা নিয়ে মেক্সিকোর অবস্থান ব্যাখ্যা করা একটি নথি পড়ে শোনানোর মাধ্যমে।
তিনি বলেন, আমরা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপকে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি। লাতিন আমেরিকার ইতিহাস পরিষ্কার ও জোরালোভাবে বলে—হস্তক্ষেপ কখনো গণতন্ত্র আনেনি, কল্যাণ সৃষ্টি করেনি কিংবা দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতাও দেয়নি।

ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওয়াশিংটনের প্রতি শেইনবাউমের এসব মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে এবং মাদুরোর অপসারণের বিরুদ্ধে অঞ্চলজুড়ে সবচেয়ে শক্ত প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে শেইনবাউম মেক্সিকোতে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ সহ্য করবেন না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার, সন্ত্রাসবাদ ও অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে অভিযোগ এনেছে। সোমবার নিউইয়র্কের একটি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং যুদ্ধবন্দি বলে ঘোষণা দেন মাদুরো।
তবে পর্দার আড়ালে ভেনেজুয়েলায় হামলার পর মেক্সিকো সিটি সম্ভবত ওয়াশিংটনের আরও কাছাকাছি যাবে—এই আশায় যে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হলে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ঠেকানো যাবে বলে ধারণা করছেন মেক্সিকান কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেক্সিকোর এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কার্টেলবিরোধী লড়াই আরও শক্তিশালী করাই একতরফা মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর মূল চাবিকাঠি।

সূত্র: রয়টার্স।




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি