মদুনাঘাট ব্রীজে চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী হাকিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বুড়িশ্চর ইউনিয়নের মদুনাঘাট ব্রিজে চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী হাকিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। এই ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার নাজমুল হাসান।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, বিপিএম-বার-এর দিক-নির্দেশনায় ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিবরণ: নিহত হাকিম ঘটনার দিন বিকেলে নিজ প্রাইভেটকারে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাকিম গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।
প্রথম গ্রেপ্তার: তদন্তের ভিত্তিতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে গত ৩১ অক্টোবর রাউজান থানাধীন বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীব উল্লাহ পাড়া এলাকা থেকে মো. আব্দুল্লাহ খোকন (প্রকাশ ল্যাংড়া খোকন)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। খোকন জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পরবর্তী গ্রেপ্তার: খোকনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ নভেম্বর রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. মারুফ-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
অস্ত্র উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার: মারুফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪ নভেম্বর রাতে হাটহাজারী থানার একটি বিশেষ দল রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. সাকলাইন হোসেন-কে গ্রেপ্তার করে। তাঁর হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, একটি এলজি এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বক্তব্য এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাউজান থানাধীন বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
পুলিশের তৎপরতায় ইতোমধ্যে জিয়াউর রহমানসহ মোট চারজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া আরও ১০-১২ জন আসামির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং চট্টগ্রাম জেলায় সংঘটিত অন্যান্য ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় নোয়াপাড়া, চৌধুরীহাট ও আশপাশের এলাকায় চেকপোস্ট, পুলিশি টহল, বিশেষ অভিযান এবং রাত্রীকালীন সাঁড়াশি তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।












