মসজিদের নাম ভাঙিয়ে জায়গা দখল ও অবৈধ বালু পয়েন্ট স্থাপনের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

মসজিদের নাম ভাঙিয়ে জায়গা দখল ও অবৈধ বালু পয়েন্ট স্থাপনের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ

মসজিদের নাম ভাঙিয়ে জায়গা দখল ও অবৈধ বালু পয়েন্ট স্থাপনের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী ফুলতলা স্টেশন এলাকায় মসজিদের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালু পয়েন্ট স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে চকরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত হোসেন ও বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন বাদশাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জোসনা মোস্তারী (৪৮) গত ২৯ মে চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী মৌজার বিএস ৫৪৫ ও ৫৪৬ নম্বর দাগের ১০ শতক জমি তাঁর ভাই নুরুল আমিন ২০০২ সালে বৈধভাবে ক্রয় করেন। বর্তমানে নুরুল আমিন সৌদি আরবে অবস্থান করায় আমমোক্তারনামার মাধ্যমে জোসনা মোস্তারী জমিটির দেখাশোনা করে আসছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এর আগেও অভিযুক্তরা জমিটি দখলের চেষ্টা করলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে চকরিয়া থানা থেকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নোটিশ জারি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট জমিতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ২৬ মে রাত ১০টার দিকে কফিল উদ্দিন বাদশা, শওকত হোসেনসহ অন্যরা শ্যালো মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাট শুরু করেন। উদ্দেশ্য ছিল জমিটি জবরদখল করে সেখানে অবৈধ বালু পয়েন্ট স্থাপন করা।

জোসনা মোস্তারী আরও অভিযোগ করেন, তিনি ও স্থানীয় লোকজন বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী জোসনা মোস্তারী বলেন, “আমার ভাইয়ের বৈধ মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশও মানা হচ্ছে না। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ও মসজিদের সভাপতি শওকত হোসেন বলেন, “উক্ত জায়গাটি আমার পরিবার মসজিদকে দান করেছে। এটা মসজিদের জায়গা। মসজিদে বালু ফেলে ঈদের মাঠ করা হচ্ছে, এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই।”

তবে কফিল উদ্দিন বাদশার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোছাইন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জমি দখল ও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।