মহেশখালীতে টার্মিনাল বিকল: দীর্ঘায়িত হচ্ছে বিষম গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে গৃহস্থালি ও শিল্প
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

মহেশখালীতে টার্মিনাল বিকল: দীর্ঘায়িত হচ্ছে বিষম গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে গৃহস্থালি ও শিল্প

মহেশখালীতে টার্মিনাল বিকল: দীর্ঘায়িত হচ্ছে বিষম গ্যাস সংকট, চরম ভোগান্তিতে গৃহস্থালি ও শিল্প
ছবি সংগৃহীত।

মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ায় দেশে চলমান গ্যাস সংকট অন্তত আরও এক মাস দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় আবাসিক রান্নাঘর থেকে শুরু করে গণপরিবহন ও শিল্প উৎপাদনে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের (এফএসআরইউ) বয়লার শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়। এর ফলে দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানির যে সম্মিলিত সক্ষমতা ছিল, তার প্রায় অর্ধেক স্তব্ধ হয়ে যায়। ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ২২০ কোটি ঘনফুটে, যা মোট ঘাটতি বাড়িয়ে দাঁড় করিয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশে।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বিদেশি প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে মেরামতকাজ শুরু হলেও চলতি মাসজুড়ে টার্মিনালটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “একটি এফএসআরইউ বিকল থাকায় সার্বিক সরবরাহে যে বড় ধাক্কা লেগেছে, তা দ্রুত কাটানো সম্ভব হচ্ছে না। যন্ত্রাংশ সংস্থাপন ও নিরাপত্তা পরীক্ষার কারণে চলতি মাসে টার্মিনালটি চালু হওয়া অসম্ভব, আরও কিছুদিন সময় লাগবে।”

তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকায় সংকট রূপ নিয়েছে ভয়াবহ রূপ। ১৯০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে তিতাস সরবরাহ পাচ্ছে মাত্র ১২০ কোটি ঘনফুট। তিতাসের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান নিশ্চিত করেছেন যে, কক্সবাজারের মহেশখালী টার্মিনাল পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত এই বিশাল ঘাটতি মেটানোর অন্য কোনো বিকল্প উৎস নেই।

সংকটের সরাসরি আঘাত পড়েছে রাজধানীসহ সারাদেশের বাসাবাড়িতে। ভোর না হতেই রাজধানীর মগবাজার, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পুরান ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় চুলার গ্যাস নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। গভীর রাতের আগে গ্যাসের দেখা মিলছে না। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ে সিলিন্ডার গ্যাস ও ইনডাকশন চুলার দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ, যাতে মাস শেষে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দ্বিগুণ বিলের বোঝা টানতে হচ্ছে।

একই সাথে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে সড়ক পরিবহনে। রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ (পিএসআই) তলানিতে ঠেকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে। চালকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন, যার প্রভাবে ট্রিপের সংখ্যা ও আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সার কারখানা ও শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করায় বিঘ্নিত হচ্ছে সার্বিক উৎপাদন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশীয় কূপ অনুসন্ধানে স্থবিরতা এবং আমদানিকৃত এলএনজির ওপর একক নির্ভরতাই আজকের এই সংকটের প্রধান কারণ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “একটি মাত্র ভাসমান টার্মিনাল বিকল হলেই গোটা দেশের অর্থনীতি জিম্মি হয়ে পড়ে—এই অবকাঠামোগত দুর্বলতা আমাদের আমদানিনির্ভর নীতিমালার ফল। নতুন কূপ খননের যে পদক্ষেপ এখন নেওয়া হচ্ছে, তা আরও পাঁচ বছর আগে নেওয়া উচিত ছিল।”




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।