মহেশখালীতে সৈকতে ভেসে আসছে মৃত মা কাছিম: হুমকির মুখে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

মহেশখালীতে সৈকতে ভেসে আসছে মৃত মা কাছিম: হুমকির মুখে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান

মহেশখালীতে সৈকতে ভেসে আসছে মৃত মা কাছিম: হুমকির মুখে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা সমুদ্র সৈকতে ডিম পাড়তে এসে একের পর এক মা কাছিমের মৃত্যু হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার হাঁসের চর ও সাইরার ডেইল এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মৃত কাছিম ভেসে আসার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের মতে, সাগরে ক্রমবর্ধমান দূষণ এবং উপকূলীয় আবাসস্থল ধ্বংসের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটছে।

সরেজমিনে ধলঘাটার হাঁসের চর সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা বেশ কিছু কাছিম বালুচরে পড়ে আছে। ধলঘাটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির জানান, "সৈকতের এক এলাকায় ১০-১৫টি মৃত মা কাছিম পড়ে থাকতে দেখেছি। ধারণা করছি, ডিম পাড়তে আসার সময় প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এগুলোর মৃত্যু হয়েছে।"

স্থানীয় সূত্র ও পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও গভীর সমুদ্র বন্দরের চলমান নির্মাণকাজের বর্জ্য সাগরে মিশে পানি দূষিত করছে। এছাড়া কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত সংরক্ষিত ঝাউবাগান ও প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ) নিধনের ফলে মা কাছিমগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে প্রাণ হারাচ্ছে। মাতারবাড়ী সাইরার ডেইল সংলগ্ন জেলেরা জানান, কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সাগর দূষিত হওয়ায় মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কাছিমগুলোও মারা যাচ্ছে।

মহেশখালী পরিবেশ আন্দোলনের নেতা মাওলানা মহসিন বলেন, "ডিম পাড়তে এসে মা কাছিমের মৃত্যু উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য অশনিসংকেত। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করে অবিলম্বে এসব এলাকাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা প্রয়োজন।"

মাতারবাড়ী বন বিট কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলেন না। তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন বলেন, “ধলঘাটা ও মাতারবাড়ী সৈকতে কাছিমের মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
 




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।