মানুষ স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, এখন দেশ গড়ার পালা
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন

মানুষ স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, এখন দেশ গড়ার পালা

মানুষ স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, এখন দেশ গড়ার পালা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখন শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র, নারী ও পুরুষ, সকলে মিলে দেশ গড়ার পালা।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সামনে একটি ব্যানার আছে, যেখানে লেখা রয়েছে, বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে। বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। এই সরকার গঠিত হওয়ার পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বসেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি। এক মাস আগেই আমি নির্দেশনা দিয়েছি যে, কীভাবে আমরা কত দ্রুত বন্ধ কলকারখানা চালু করতে পারব, যাতে যে সকল শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে গিয়েছিলেন, তাদের পুনরায় কর্মের ব্যবস্থা করা যায়। সেই বৈঠকটি এই সপ্তাহে আবার নির্ধারিত হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে যে সকল কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা সেগুলো আবার চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তবে শুধু বন্ধ কলকারখানা চালু হলেই সকল শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে না। বর্তমানে দেশে আরও লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক রয়েছেন। তাদের জন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু করেছি। আমরা তাদের উৎসাহিত করছি এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি, যাতে বিনিয়োগকারীরা এই দেশে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন করেন।

তিনি বলেন, আমরা জানি, এই দেশে কলকারখানা তৈরি হলে এ দেশের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শ্রমিকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে; কৃষকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যখন ভালো থাকবে, তখনই কেবল বাংলাদেশ ভালো থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় হকার ভাইদের অবস্থানের কারণে যানজটসহ সাধারণ মানুষের চলাফেরায় অসুবিধা সৃষ্টি হচ্ছিল, তাই আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমরা এটিও বুঝি যে তারাও মানুষ; তাদের পরিবার আছে এবং তাদেরও খেয়ে-পরে বাঁচতে হবে। সে কারণেই আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছি যে, হকার উচ্ছেদ করলেই হবে না, এই মানুষগুলো যাতে সম্মানের সাথে ব্যবসা করে জীবন ধারণ করতে পারে, তার ব্যবস্থাও করতে হবে। এরই মধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা জানি, সকলকে হয়তো একসাথে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে না, তবে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা ব্যবস্থা করব।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের নির্বাচিত সরকার অবশ্যই খেটে খাওয়া মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। সে কারণেই আপনারা দেখেছেন, গতকাল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরীতে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হকাররা যাতে শান্তিতে ব্যবসা করতে পারেন এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার শিকার না হন, সেজন্য নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে তাদের ধীরে ধীরে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছি আমরা।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।