মীরসরাইয়ে 'জুলাই যোদ্ধা' তাহমিদ হত্যা মামলায় ছাত্রদল কর্মী গ্রেফতার

মীরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর বাজারে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সদস্য তাহমিদ উল্লাহ (১৮) হত্যার ঘটনায় জড়িত মো. জাহিদুল ইসলাম নামে এক ছাত্রদলকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন তাজপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মো. জাহিদুল ইসলাম উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর সোনাপাহাড় গ্রামের দানা মিয়া সর্দার বাড়ির মৃত মো. ইউসুফের ছেলে।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী নাজমুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিবরণ দেন। এর আগে বারইয়ারহাট পৌর বাজারে দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে গত ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম মিয়াজীর অনুসারী দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হওয়া তাহমিদ উল্লাহ চমেক (চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিল।
তাহমিদ উল্লাহর মা জোহরা বেগম গত ১২ ডিসেম্বর রাতে বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১০-১৫ জন আসামির বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় ছাত্রদলকর্মী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তাহমিদ বারইয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আলমগীর হোসেনের ছেলে। স্থানীয় কদমতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। তাহমিদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন মীরসরাই উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব, এপি (AP) বাংলাদেশের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সদস্যের দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া 'দ্য রেড জুলাই মঞ্চের' আহ্বায়ক ও ধর্ষণ প্রতিরোধ মঞ্চের উদ্যোক্তা ছিলেন। মৃত্যুর পর তাহমিদকে বারইয়ারহাট পৌর ছাত্রদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে বিবৃতি দেয় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদল।
বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে বলেন, ছাত্রদলকর্মী তাহমিদকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারকৃত মো. জাহিদুল ইসলাম ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সে কোনো পদে না থাকলেও দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করত।
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, তাহমিদ হত্যার অন্যতম আসামি জাহিদুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনায় জাহিদ জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন, জাহিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে বারইয়ারহাট পৌরসভার জামালপুর রবিউল হক সওদাগর বাড়ির সামনের পানির ড্রেন থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অন্যান্য আসামিদের নাম বলেছে। আমরা তাঁদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছি।












