মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে ভারতে খেলতে যাওয়ার সুপারিশ আইসিসির
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩০ অপরাহ্ন

মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে ভারতে খেলতে যাওয়ার সুপারিশ আইসিসির

মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে ভারতে খেলতে যাওয়ার সুপারিশ আইসিসির
ছবি সংগৃহীত।

নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রস্তাব শ্রীলঙ্কায় খেলা আয়োজন করার। কিন্তু আইসিসি এখনও তাতে সাড়া দেয়নি।

তবে, ভারতের মাটিতে গিয়ে নিরাপদে খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে তিনটি সুপারিশ করেছে আইসিসির সিকিউরিটি টিম। আজ বাফুফে ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আইসিসি সিকিউরিটি টিমের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে তিনটি কারণে বাংলাদেশের নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করেছে। এই তিনটি বিষয়কে এড়িয়ে খেলতে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। তবে, ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এসব মেনে ভারতের মাটিতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ।

তিনটি সুপারিশের মধ্যে বড় একটি কারণ, বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করা। ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, মোস্তাফিজ দলে থাকলে তা দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে বলে জানানো হয়েছে চিঠিতে। অর্থাৎ মোস্তাফিজকে বাদ দিতে হবে অনেকটা এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছে আইসিসি।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘ক্রিকেটের বিষয়ে (ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়া নিয়ে) আমরা আইসিসিকে দুটি চিঠি দিয়েছি এবং তাদের উত্তরের অপেক্ষায় আছি। এরই মধ্যে আইসিসির সিকিউরিটি টিম একটি চিঠি দিয়েছে। যেখানে তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ১. দলে মোস্তাফিজের অন্তর্ভুক্তি; ২. সমর্থকদের জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করা; ৩. নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, নিরাপত্তা ঝুঁকি তত বৃদ্ধি পাবে।’

অর্থাৎ ক্রীড়া উপদেষ্টার দেওয়া তথ্যমতে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তার বিষয়ে যে শঙ্কার কথা বিসিবির পক্ষ থেকে আইসিসিকে জানানো হয়েছে, সেটাকেই আক্ষরিক অর্থে স্বীকার করে নিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশ দলের মূল স্ট্রাইক বোলার মোস্তাফিজকে নিয়ে খেলতে গেলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

আবার বাংলাদেশের সমর্থকরা নিজ দেশের জার্সি পরে যদি ঘোরাফেরা করে, গ্যালারিতে যায়, তাহলে তারা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে। তার ওপর বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনও ভারতের মাটিতে বাংলাদেশিদের জন্য নিরাপত্তার জন্য বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘আইসিসি সিকিউরিটি টিমের এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে বর্তমানে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। আমাদের সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে দল তৈরি করা বা সমর্থকদের জার্সি পরতে বাধা দেওয়া— এমন উদ্ভট ও অবাস্তব প্রত্যাশা হতে পারে না।’

বাংলাদেশকে ভারতের বাইরে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান কিংবা আরব আমিরাত- যেখানেই হোক, খেলার সুযোগ তেরি করে দিতে আইসিসির প্রতি আহ্বান জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘গত ১৬ মাস ধরে ভারতে যে বাংলাদেশবিদ্বেষী এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিবেশ বিরাজ করছে, তাতে সেখানে খেলা অসম্ভব। আমাদের স্পষ্ট কথা, ক্রিকেটে কারও মনোপলি থাকা উচিত নয়। আইসিসি যদি সত্যিই গ্লোবাল অর্গানাইজেশন হয়, তবে আমাদের খেলার সুযোগ শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাতে দেওয়া উচিত।’

কথা উঠেছিল, ইংল্যান্ড তো শ্রীলঙ্কার মাটিতে গিয়ে গত বেশ কয়েক বছর ধরে খেলে না। তাদের সব ম্যাচের ভেন্যুই ভারতে। তো ইংল্যান্ডের ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন করতে হলে তাদের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অন্তত ভেন্যু পরিবর্তন করে একটি ম্যাচ হলেও ভারতের মাটিতে খেলতে হতে পারে।

এ নিয়েও কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি জানিয়ে দেন, ভেন্যু পরিবর্তন করা হলেও ভারত তো ভারতই। সে যে ভেন্যুতেই হোক। সব মিলিয়ে ভারতের কোনো ভেন্যুতেই খেলা নিরাপদ নয় বাংলাদেশের জন্য। ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘ভারত যদি ভেন্যু পরিবর্তন করে কেরালা বা অন্য কোথাও নেয়, তাতেও আমাদের আপত্তি আছে; কারণ ইন্ডিয়া মানে তো ইন্ডিয়াই। যেখানে আমাদের প্লেয়ারদের খেলার মতো নিরাপদ পরিবেশ নেই, সেখানে আমরা নতি স্বীকার করব না। আইসিসি সিকিউরিটি টিমের চিঠিই বড় প্রমাণ যে ভারতের কোনো জায়গায়ই খেলার উপযুক্ত পরিবেশ নেই।’




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।