যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা এখন কানাডার ‘দুর্বলতা’: মার্ক কার্নি
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২২ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা এখন কানাডার ‘দুর্বলতা’: মার্ক কার্নি

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা এখন কানাডার ‘দুর্বলতা’: মার্ক কার্নি
ছবি সংগৃহীত।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক একসময় তাদের জন্য বড় শক্তি ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা ‘দুর্বলতা’য় পরিণত হয়েছে, যা সংশোধন করা জরুরি। ১০ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় কার্নি কানাডার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অন্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক ও বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্য নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে এবং শুল্কের হার এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা মহামন্দার সময় দেখা গিয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের কারণে অটোমোবাইল ও ইস্পাত শিল্পের শ্রমিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন কার্নি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে যেসব বিষয় আগে শক্তি ছিল, এখন তা দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে। এই দুর্বলতাগুলো আমাদের অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগ করতে দ্বিধা করছেন। এছাড়া কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কানাডার সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কথাও উঠে আসে কার্নির আলোচনায়।


অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দিয়ে কার্নি বলেন, কানাডার নাগরিকদের জন্য বাস্তব ঝুঁকিগুলো উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা নিজেদের যত্ন নিতে বাধ্য, কারণ আমরা কোনও একক বিদেশি অংশীদারের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারি না। প্রতিবেশীর কাছ থেকে আসা অস্থিরতা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তবে আমাদের এখানে কী ঘটবে, তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।

কার্নি কানাডার ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সক্ষমতা দ্বিগুণ করা, দেশের অভ্যন্তরে বাণিজ্যের বাধা কমানো, প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো, কর হ্রাস এবং আবাসন ব্যবস্থা সাশ্রয়ী করার কথা জানান। তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের জন্য একটি শক্তিশালী দেশ গড়তে হবে, যা বাইরের অস্থিরতা সহ্য করতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কার্নি বলেন, কানাডা সবসময়ই যুক্তরাষ্ট্রের একজন ভালো প্রতিবেশী ছিল এবং আফগান যুদ্ধসহ দুটি বিশ্বযুদ্ধে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন বদলে গেছে এবং আমাদেরও সেই অনুযায়ী সাড়া দিতে হবে। এটি আমাদের নিরাপত্তা, সীমান্ত এবং ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াই।

কার্নি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে—শুধু এই আশায় বসে থাকা কোনও কার্যকর কৌশল নয়। তার ভাষায়, ‘আশা কোনও পরিকল্পনা নয় এবং নস্টালজিয়া কোনও কৌশল হতে পারে না।

এদিকে, দেশটির বিরোধী রক্ষণশীলরা তার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির দাবি জানাচ্ছেন। এ বছরের জুলাইয়ে উত্তর আমেরিকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (নাফটা) বর্তমান সংস্করণ পর্যালোচনার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে শক্তিশালী দেশগুলোর অর্থনৈতিক জবরদস্তির নিন্দা জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন কার্নি। সেই সময় তার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘কানাডা টিকে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কারণে। মার্ক, পরের বার বিবৃতি দেওয়ার সময় এটি মনে রেখো।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান




মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, হাজার হাজার ভিসা বাতিল
ছবি সংগৃহীত।

হাজার হাজার ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে অভিবাসন দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আওতায় হাজার হাজার মানুষের ভ্রমণ ও অভিবাসন সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভিসা লঙ্ঘন, জালিয়াতি, সহিংসতার আহ্বান এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য হুমকির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই বেশিরভাগ ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাপকহারে ভিসা বাতিল গত বছর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর শুরু হওয়া অভিবাসন দমন অভিযানেরই প্রতিফলন। এর মাধ্যমে বৈধ ভিসাধারীসহ নজিরবিহীন সংখ্যক মানুষকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ধারাবাহিক যাচাই-বাছাই কার্যক্রমের ফলস্বরূপ এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, ভিসাধারীরা যাতে তাঁদের ভিসার শর্তাবলি মেনে চলেন এবং আমেরিকানদের বিপদে ফেলেন না, সেটি নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

এতে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ‘বার্থ ট্যুরিজমের’ জন্য ১০০ জনেরও বেশি দম্পতির ভিসা বাতিল করেছে। তারা মূলত সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন, যাতে তাঁদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, মার্কিন নিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও তদন্ত অব্যাহত রাখবে ট্রাম্প প্রশাসন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মার্কিন ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়। যারা এই সুবিধার অপব্যবহার করবে, তাদের ভিসা বাতিল করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তারা এক লাখেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছে। ওই সময় এটি একটি রেকর্ড ছিল।

সূত্র : আল জাজিরা 




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি