যুবকদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে কাজ, মাদকের পরিবর্তে কুরআন তুলে দিতে চাই- এড. এহসানুল মাহবুব যুবায়ের
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

যুবকদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে কাজ, মাদকের পরিবর্তে কুরআন তুলে দিতে চাই- এড. এহসানুল মাহবুব যুবায়ের

যুবকদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে কাজ, মাদকের পরিবর্তে কুরআন তুলে দিতে চাই- এড. এহসানুল মাহবুব যুবায়ের
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারী এবং কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি এড. এহসানুল মাহবুব যুবায়ের বলেছেন, সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা যুবকদের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে কাজ এবং মাদকের পরিবর্তে কুরআন তুলে দিব। এমন বাংলাদেশ গড়বো যেখানে আয়নাঘর থাকবে না।

শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহর জামায়াতের যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এড. এহসানুল মাহবুব যুবায়ের এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই পরিবর্তন বহুল আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন। বৈষম্য, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ লড়াই করেছে। বিশাল আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। রায় বাস্তবায়নে তালবাহানা চলবে না।

তিনি আরো বলেন, একটি জালিম সরকারের বিরুদ্ধে আমরা ১৭ বছর লড়াই করেছি। অবশেষে রক্ত দিয়ে বহুল আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন যুবকরাই এনেছে। মাথা ঠান্ডা রক্ত গরম যুবকরা দেশেরা চেহারা পাল্টাতে পারে। 
যুবকদের সঙ্গে নিয়ে আমরা সিভিল ডিফেন্স গড়ে তুলবো। সমাজের সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুবকদের কাজে লাগাতে চাই।

বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে এড. এহসানুল মাহবুব যুবায়ের বলেন, যুবকদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা কোন সরকার নেয়নি। যুবকদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দিচ্ছে। সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের অস্ত্র ও কারাগারের করিডোর হয়ে গেছে কক্সবাজার। সীমান্তের উপারে ফেনসিডিল কারখানা। বাধাহীন ঢুকছে মাদক। টার্গেট যুব সমাজ ধ্বংস করা।

তিনি আরো বলেন, যুবকদের বিরাট একটি অংশ বেকার। তাদের হাতে কাজ না থাকায় অপরাধে জড়াচ্ছে। মাদক এবং অস্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ করা লাগবে।

যুব বিভাগের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে এহসানুল মাহবুব যুবায়ের বলেন, যুবকরা স্বপ্ন নিয়ে বিদেশ গেলেও কর্মদক্ষতা না থাকায় স্বপ্নভঙ্গ হয়ে ফেরত আসছে দেশে। কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে যুবকদের হাতকে কর্মের হাতে পরিণত করতে চাই।

আমাদের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ। বড় ধরণের দুর্যোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে। টগবগে যুবকদের আমরা জাতি গড়ার কাজে লাগাতে চাই।

প্রধান অতিথি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে এসে শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদ কায়েম করে। আমি-ডামি নির্বাচনে মানুষের অধিকার হরণ করেছে। ইতিহাসের ভয়ানক কুখ্যাত দলে পরিণত হয় আওয়ামী লীগ।

বিএনপি সরকারকে এখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান এডভোকেট যুবায়ের।

তিনি বলেন, সব জায়গায় ব্যাপক দলীয়করণ করছে বিএনপি। তাতে নিজেদের কবর রচনা করবে তারা। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প পথ থাকবে না বলে মন্তব্য করেন প্রধান অতিথি।

শহর যুব বিভাগের সভাপতি কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী।

তিনি বলেন, যুবকদের অংশগ্রহণ এবং রক্ত ছাড়া পৃথিবীতে কোন বিপ্লব সফল হয়নি। চব্বিশে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে ওঠে যুবকদের নেতৃত্বে। এই যুবকদের বাদ দিয়ে আগামীর ইসলামী বিপ্লব সম্ভব হবে না।

জেলা আমির বলেন, কক্সবাজার যে অবস্থা গেছে আগামীতে বাসযোগ্য জেলা থাকবে না। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে যুবকদের সঙ্গে চাই।

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে যুবকদের এগিয়ে আসার আহবান জানান অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী।

‘নতুন দিনের ডাকে জাগো, ভাঙো সকল জীর্ণতার বাধা’ শিরোনামে জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের এই সমাবেশে বক্তব্য দেন, 
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহেদুল ইসলাম, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ, শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি জিএএম আশেক উল্লাহ, জেলা শিবিরের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আবু তালহা, সাবেক ছাত্রনেতা লন্ডন প্রবাসী ব্যরিস্টার সরওয়ার কামাল, কক্সবাজার শহর জামায়াতের সেক্রেটারি রিয়াজ মুহাম্মদ শাকিল, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শফিউল আলম খন্দকার, দরবেশ আলী আরমান, আজিজুর রহমান, এডভোকেট মামুনুর রশীদ, ডা. কায়সার আমিন কায়েসসহ যুব নেতৃবৃন্দ।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানসহ পৃথিবীর সমস্ত বিপ্লব যুবকরাই ঘটিয়েছে। দেশের প্রয়োজনে নৈতিক অবস্থান থেকে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

মাদক উদ্ধারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে শহর জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, সীমান্ত পথে কিভাবে মাদক ঢুকে আপনার জানা আছে। যেকোনো মূল্যে মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। যুব সমাজকে বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।

বেকারত্ব, নৈতিক অবক্ষয় এবং অসংস্কৃতি থেকে যুব সমাজকে বাঁচাতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জেলা জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ।

সেই সঙ্গে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে যুব সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শহর যুব বিভাগের সভাপতি কামরুল হাসান।

সমাবেশে শহর যুব বিভাগের সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার, ইয়াসিন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সেক্রেটারি মোঃ শওকত আলমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।