রামুতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি মানুষের চরম দূর্ভোগ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন

রামুতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি মানুষের চরম দূর্ভোগ

রামুতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি মানুষের চরম দূর্ভোগ
ছবি সংগৃহীত।

গত কয়েক চলমান টানা ভারী বর্ষণ ও পা'হা'ড়ী ঢলে  কক্সবাজারের রামু উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘর, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পড়েছে চরম দূর্ভোগে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। অনেক সড়ক পানির নিচে চলে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ আংশিকভাবে বি'চ্ছি'ন্ন হয়ে পড়েছে।


পানিবন্দি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকটে রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ সহায়তা ও জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।


জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল হান্নান জানান, আগামী কয়েক দিন টানা ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পা'হা'ড় ধ'স-এরও আ'শং'কা রয়েছে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জেলার ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পা'হা'ড়ী এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা এবং ক্ষ'তি'গ্র'স্ত-দের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় স্থানীয়দের অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল থেকে বিরত থাকা এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

শুধু তা নয় অনেকর ঘর বাড়ী ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হয়ে পড়ছে। বৃষ্টি চলমান থাকায় চরম দূর্ভোগে পড়েছে ১১ ইউনিয়নের প্রায় লাখো মানুষ। বিভিন্ন এলাকায় কিছু কিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হলেও ত্রাণের পরিমাণ আরো বেশি বাড়ানো বলে মনে করছেন বন্যা কবলিত লাখো মানুষ।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।