রামুতে বনভূমি ও বাঁকখালী নদী দখলে নিয়ে বাড়ছে তামাক চাষ

কক্সবাজারের রামুতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও কৃষি বিভাগের সচেতনতামূলক কার্যক্রমকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সংরক্ষিত বনভূমি এবং বাঁকখালী নদীর তীরে তামাক চাষের মহোৎসব চলছে। তামাক কোম্পানিগুলোর সহজ শর্তে ঋণ ও সারের প্রলোভনে গত বছরের তুলনায় এবার চাষের পরিধি দ্বিগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের এই জনপদ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কচ্ছপিয়া, গর্জনিয়া, ঈদগড়, কাউয়ারখোপ এবং রাজারকূলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি সরকারি খাস জমি ও সামাজিক বনায়নের এলাকা দখল করে তামাকের আবাদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাঁকখালী নদীর দুই তীর এখন তামাকের সবুজ পাতায় ঢাকা। অভিযোগ উঠেছে, তামাক কোম্পানিগুলো চড়া দামে জমি বর্গা নেওয়ায় সাধারণ কৃষকেরা ধান বা সবজি চাষ বাদ দিয়ে ক্ষতিকর এই চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
স্থানীয় কৃষক আবু তালেব জানান, তামাকের পাতা বড় করতে জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়, যা মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। এছাড়া তামাক পাতা পোড়ানোর জন্য বনাঞ্চলের কাঠ দিয়ে কয়েক হাজার অবৈধ চুল্লি তৈরির প্রস্তুতি চলছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও বনাঞ্চল উজাড় হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বনভূমিতে তামাক চাষের সত্যতা স্বীকার করে বাঁকখালী বিট কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে অবৈধভাবে তামাক চাষ করছেন। ইতিমধ্যে ডাক্তার কাটা ও গোল ডেবা এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে অবশিষ্ট অবৈধ চাষাবাদ ও স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।”
সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই তামাক চাষের বিষে বনাঞ্চল ও নদীর স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।










