রামুতে মহামারির আকার নিয়েছে অনলাইন জুয়া
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন

রামুতে মহামারির আকার নিয়েছে অনলাইন জুয়া

রামুতে মহামারির আকার নিয়েছে অনলাইন জুয়া
ছবি সংগৃহীত।

‎কক্সবাজারের রামু উপজেলায় কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছে না সর্বনাশা অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের থাবা। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে  এলাকার আনাচে-কানাছে ছড়িয়ে পড়েছে এই ডিজিটাল মাদক। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে দিন দিন এই মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

‎​অনুসন্ধানে জানা গেছে, রামুর যুবক-তরুণদের পাশাপাশি রিকশা ও টমটম চালক, সাধারণ দোকানদার এবং মধ্যবয়সী থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও এখন মোবাইল স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকছেন জুয়ার আশায়। ফলে উপজেলার শত শত পরিবার অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

‎​যেভাবে ছড়াচ্ছে এই জাল

‎​স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওয়ানএক্সবেট,  মেলবেট,  বাজি লাইভ  সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক বেটিং অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই জুয়া খেলা চলছে। উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের কিছু মোবাইল রিচার্জের দোকান এবং বিকাশ/নগদ এজেন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জুয়ার লেনদেন চক্র। 'লোকাল এজেন্ট' বা 'ডিপোজিট মাস্টার'দের মাধ্যমে জুয়াড়িরা টাকা পাচার করছে।

‎​দিনমজুর থেকে ব্যবসায়ী, সবাই আক্রান্ত

‎​আগে জুয়া খেলার জন্য নির্দিষ্ট আড্ডায় যেতে হতো, কিন্তু অনলাইন জুয়া এখন হাতের মুঠোয় চলে আসায় এর পরিধি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে:

‎​গাড়ি চালক ও দিনমজুর: সারাদিনের উপার্জনের টাকা টমটম বা রিকশার সিটে বসেই জুয়ার অ্যাপে ঢেলে দিচ্ছেন অনেক চালক।

‎​দোকানদার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: ব্যবসার ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা নিয়ে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার লোভে ডিজিটাল জুয়ায় ধরছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে দোকান বন্ধ করে গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইলে মগ্ন থাকছেন।

‎​শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ: স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোর এবং বেকার যুবকদের একটি বিশাল অংশ মা-বাবার পকেট কেটে বা ধারদেনা করে এই জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছে।

‎​বাড়ছে পারিবারিক কলহ ও অপরাধ

‎​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামুর এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জানান, "অনলাইন জুয়ার কারণে ঘরে ঘরে অশান্তি। জুয়াড়িরা টাকা না পেয়ে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছে, স্ত্রীর গয়না বন্ধক রাখছে। টাকা জোগাড় করতে অনেকে এখন চুরির মতো অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে।"

‎​প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি।

‎​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এনালগ জুয়ার চেয়ে অনলাইন জুয়া ধরা কঠিন, কারণ এটি গোপনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খেলা হয়। তবে যেসব স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে জুয়ার টাকা লেনদেন (ক্যাশ-ইন/ক্যাশ-আউট) হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনলে এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

‎​রামু উপজেলাকে এই নীরব ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বাঁচাতে সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ এবং কঠোর অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।