রামুতে যুবকের গলাকাটা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী পলাতক
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন

রামুতে যুবকের গলাকাটা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী পলাতক

রামুতে যুবকের গলাকাটা অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী পলাতক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে একটি ভাড়া বাসা থেকে বেলাল উদ্দিন জিহাদ প্রকাশ বাদল (২৫) নামে এক টমটম চালকের গলাকাটা ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে বুধবার (৪ মার্চ) উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরোংলোয়া এলাকা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।



‎নিহত বাদল উপজেলার পূর্ব রাজারকুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হাজীপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী রামুর খুনিয়াপালং এলাকার বাসিন্দা ও টিকটকার হিসেবে পরিচিত তাহেরা বেগম আঁখি নিখোঁজ রয়েছেন।



‎স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ওই ভাড়া বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং বিছানায় বাদলের গলাকাটা ও বীভৎস মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। লাশের অবস্থা দেখে পুলিশের ধারণা, অন্তত তিন দিন আগে তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে শাসরুদ্ধ করে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।



‎নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, পরিবারের অমতে টিকটকার আঁখিকে বিয়ে করায় স্বজনরা বিষয়টি মেনে নেননি। এই নিয়ে বিরোধের জেরে বাদল তার স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন।



‎রাজারকুল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (এমইউপি) স্বপন বড়ুয়া জানান: "নিহত বাদলের স্ত্রী আগে বিবাহিত হওয়ায় পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি। যার ফলে তারা আলাদা বাসা নিয়ে সংসার করছিলেন। কিছুদিন আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হলে সামাজিকভাবে আমরা বসে সেটি মিমাংসা করে দিয়েছিলাম।"



‎নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী আঁখি নিজেই বাদলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। গত তিন দিন ধরে আঁখির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে।



‎রামু থানা ওসি মনিরুল ইসলাম ভূইয়া জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।




দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা

দাখিলে ১২৯০ নম্বর পেয়ে জেলার শীর্ষে কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার তাসনিয়া জাহান মুনতাহা
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ১৪০০ নম্বরের মধ্যে ১২৯০ পেয়ে জেলায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন কক্সবাজার আদর্শ মহিলা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কৃতী শিক্ষার্থী তাসনিয়া জাহান মুনতাহা কক্সবাজার শহরের আলীর জাহাল পশ্চিম বড়ুয়া পাড়ার মো. শাহ আলম ও সাজেদা আক্তার সাজুর মেয়ে।

মুনতাহার প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের ধারাবাহিকতা:

তাসনিয়া জাহান মুনতাহা এই মাদ্রাসার একজন অনন্য মেধাবী শিক্ষার্থী। সে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বার্ষিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এসেছে। পুরো শিক্ষাজীবনে সে কখনো তৃতীয় স্থান লাভ করেনি।

সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ ও সনদের তালিকা:

পড়াশোনার পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তাসনিয়া জাহান মুনতাহার অর্জন এবং সনদের সংখ্যা অসামান্য।




ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ

ইসলামিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় দাখিলে চমক, পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ
ছবি সংগৃহীত।

দাখিল পরীক্ষায় চমক দেখাল ইসলামিয়া মহিলা কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা, কক্সবাজার।

১০ আগস্ট মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ জন এবং সাধারণ বিভাগে ১ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মোট ১০০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৮৪ পেয়ে রেকর্ড গড়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে ওয়ার্দা রিহাব। একই বিভাগের তাহমিদা তবচ্ছুম সাওদা গোল্ডেন জিপিএ-৫-সহ কৃতিত্ব দেখিয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ১২৩৬।

ফলাফল শিটে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৯ জন ও সাধারণ বিভাগ থেকে ২৮ জনসহ মোট ৩৭ জন পরীক্ষার্থী ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তা ছাড়া ১৭ জন এ-, ১৫ জন বি, ৭ জন সি এবং ৫ জন এফ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। মোট পাসের হার ৯৪.২৫ শতাংশ।

এদিকে জিপিএ-৫-সহ দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল হক জিহাদী। তিনি কৃতী ছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।




রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক

রামুতে দুই মাসের সন্তানকে হত্যার অভিযোগে মা আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুতে মায়ের হাতে দুই মাসের শিশুপুত্র জবাই হয়ে নির্মমভাবে খুন হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

নিহত শিশুর নাম রায়ান আহমেদ (বয়স: ২ মাস)। সে মালয়েশিয়াপ্রবাসী আব্দুল মালেকের সন্তান। শিশুর বাবার বাড়ি রাজারকুল সিকদারপাড়ায় হলেও ঘটনাটি ঘটেছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারের (২৩) বাবার বাড়ি চৌকিদারপাড়ায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রামু থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত মা রোমানা আক্তারকে আটক করে।

এ বিষয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পরিবারের তথ্যমতে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং পূর্বে তাকে চিকিৎসকও দেখানো হয়েছে।

সকালে শিশুটিকে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। অভিযুক্ত রোমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরও বলেন, "পরিবার মানসিক সমস্যার কথা বললেও প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলতে পারি না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে এবং চিকিৎসাগত পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।"

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে।