রাষ্ট্রসংস্কারে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের বিকল্প নেই: টিআইবি

জুলাই সনদের আলোকে বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, রাষ্ট্রসংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতে এই গণভোট অপরিহার্য। একই সঙ্গে জুলাই সনদের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে এক ঘোষণাপত্রে এসব দাবি জানানো হয়। সভায় সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সদস্যরা অংশ নেন।
ঘোষণাপত্রে টিআইবি সদস্যরা উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ তৈরি করা। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থ ও পেশিশক্তির পুরনো চর্চা যেন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে সরকারকে কঠোর হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। এছাড়া জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচিত বিষয়গুলোর পাশাপাশি গণমাধ্যম, নারী, শ্রম ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রস্তাবগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘোষণাপত্রে বলা হয়, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার ও নিউ এজ সম্পাদকের ওপর আক্রমণ উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির বহিঃপ্রকাশ। এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় টিআইবি। এছাড়া দুদক ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের মৌলিক পরিবর্তনকে ‘সংস্কারবিরোধী’ অবস্থান হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন সদস্যরা।
নারীবিদ্বেষী গোষ্ঠীর তৎপরতা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিতে স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে। গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।












