রুমায় হামের প্রাদুর্ভাব: এক মাসে ৫ শিশুর মৃত্যু

বান্দরবানের রুমা উপজেলার রুমা সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম লেকটংশে পাড়ায় হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে গত এক মাসে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সেখানে এখনো কোনো চিকিৎসক বা মেডিকেল টিম পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৫ জুলাই) আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো— পলি খুমী (৯), পিতা: শৈলুং খুমী, মাতা: লেলুং খুমী এবং নাতয়ই খুমী (৬), পিতা: তয়সাং খুমী, মাতা: নাইক্য খুমী।
এংসাই খুমী জানান, লেকটংশে পাড়ায় এখনো অনেক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র হওয়ায় সময়মতো চিকিৎসা করাতে পারেনি। চিকিৎসাসেবার অভাব ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আক্রান্ত শিশুদের অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
এলাকাবাসী অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁরা দ্রুত একটি মেডিকেল টিম পাঠিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল হাসান বলেন, “পাহাড়ে দুর্গম পাড়াগুলোতে হামের উপসর্গ ও প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটি সত্য। তবে মারা যাওয়ার ঘটনা এখনো শুনিনি। হামের প্রাদুর্ভাবের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাড়াগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাঠিয়ে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, গত মার্চ মাস থেকে আজ পর্যন্ত রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯০ জনের মতো শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “হামের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের যেমন কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তেমনই বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ে ম্রো ও খুমী সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে টিকা নেওয়ার অনীহার কারণেও এই প্রভাব পড়েছে।”
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তা বিথি বলেন, “দুর্গগম পাহাড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর খবর শোনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। শিশুদের হামের টিকাসহ সব ধরনের প্র্রতিষেধক এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”











