রোয়াংছড়িতে জোট পারমিটের আড়ালে অবাধে বন উজাড়

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সরকারি ‘জোট পারমিট’ ব্যবহার করে অবাধে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দুর্গম পাহাড় থেকে অবৈধভাবে সেগুন ও গর্জনসহ বিভিন্ন মূল্যবান প্রজাতির কাঠ কেটে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রোয়াংছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক কমল তঞ্চঙ্গ্যা এই চক্রটির নিয়ন্ত্রণ করছেন। জোট পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন করে নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত গাছ কেটে রাতের আঁধারে ট্রাক ও পিকআপে করে পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরোক্ষ যোগসাজশে বিভিন্ন চেকপোস্টের নজরদারি এড়িয়ে এসব কাঠ বাইরে চলে যাচ্ছে।
অভিযুক্ত কমল তঞ্চঙ্গ্যা মুঠোফোনে এক খুদে বার্তায় বলেন, "সবাইকে ম্যানেজ করেই কাঠের ব্যবসা করতে হয়। প্রয়োজনে প্রেসক্লাবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।"
বন উজাড়ের প্রভাবে পার্বত্য এই জনপদে ভূমিধসের ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক জলাধার শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না।
জানতে চাইলে রোয়াংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা শফিকুল আমিন পাটোয়ারী বিষয়টি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তার ওপর চাপিয়ে দেন। তবে তিনি দাবি করেন, বন বিভাগের একটি বিশেষ দল বর্তমানে মাঠে কাজ করছে। অন্যদিকে, বান্দরবান পাল্পউড প্ল্যান্টেশন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু ইউসুফ বলেন, “অবৈধ কাঠ পাচারের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”











