লংগদুতে পার্ক নির্মাণ রুখে দিল জনতা, ইউএনওর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ

রাঙামাটির লংগদুতে কবরস্থানের জায়গায় পার্ক নির্মাণ এবং অশালীন কার্যক্রমের অভিযোগে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ওই পার্কটি বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এদিকে, পার্ক স্থাপনে বাধা পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিরুদ্ধে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন পার্কের মালিক আবুল কালাম। তবে উপজেলা প্রশাসন এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ নভেম্বর উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের জালিয়াপাড়া সি ইউ টিলা এলাকায় একটি কবরস্থানের ওপর পার্ক নির্মাণ ও সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে স্থাপনাটি ভেঙে দেয়। পরদিন ১৫ নভেম্বর উপজেলা ইমাম সমিতি ও স্থানীয় তৌহিদী জনতা সংবাদ সম্মেলন করে পার্কের মালিক আবুল কালামের গ্রেপ্তার এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পার্কটি স্থায়ীভাবে বন্ধের আল্টিমেটাম দেয়। পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে পার্কের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়।
এই ঘটনার জেরে পার্কের মালিক আবুল কালাম স্থানীয়দের নামে ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি দেখিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেন। সর্বশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর তিনি লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর হোসাইনের বিরুদ্ধেও প্রধান উপদেষ্টার কাছে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবির লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, পার্ক উদ্বোধনের বিনিময়ে ইউএনও এই অর্থ দাবি করেছেন; যদিও অভিযোগটি তিনি অন্যের কাছ থেকে শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।
লংগদু উপজেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আমিনুর রশিদ বলেন, "আমাদের প্রতিবাদের মুখে মালিক জানিয়েছিলেন তিনি আর পার্ক করবেন না। এখন আবার মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। পুনরায় অশালীন কার্যক্রম শুরু হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।" ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আব্দুল মতিন ইউএনওর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে 'অহেতুক হেনেস্তা' বলে নিন্দা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, "ঘুষ নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই ব্যক্তি মূলত সরকারি খাস জমি নিজের নামে রেকর্ড করে দেওয়ার অনৈতিক দাবি নিয়ে এসেছিলেন। রেকর্ড করার এখতিয়ার আমার নেই বলায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাছাড়া ওই স্থানে স্থানীয়দের কবরস্থান রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।"
অভিযোগকারী আবুল কালামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।











