শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে : ইউনিসেফ
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে : ইউনিসেফ

শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে : ইউনিসেফ
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ।

শনিবার (২৩ মে) এক বিবৃতিতে বলা হয়, শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যাসহ ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত। বিশেষ করে যেসব স্থান শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা, সেখানেই তারা সহিংসতার শিকার হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ভুক্তভোগী শিশু ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানায় সংস্থাটি। 
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে নির্মম ও যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিশু সুরক্ষা ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সারাদেশব্যাপী কার্যকর ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অপরাধীদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, অভিযোগ গ্রহণ প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশিং ও বিচারব্যবস্থা, কমিউনিটি সুরক্ষা এবং সামাজিক সেবার বিদ্যমান ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের জন্য মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র, পাড়া-মহল্লা ও শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে হবে, যাতে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।

ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, সমাজে নীরবতা বজায় থাকলে সহিংসতা আরও বিস্তার লাভ করে। এ কারণে শিশু, নারী, পরিবার, কমিউনিটি ও সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে যেকোনো সহিংসতা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে জাতীয় শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮ এ যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যেখানে নির্যাতনের শিকার শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হয়।

ইউনিসেফ আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের মর্যাদা ও গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া নতুন ধরনের মানসিক নির্যাতনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের সম্মান বজায় রাখতে এ ধরনের ছবি, ভিডিও বা তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এর পরিবর্তে অপরাধীদের দায়মুক্তির অবসান এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামাজিক সচেতনতা ও জনমত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।




আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান : টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে পরিবারে শিশুর লালন-পালন এবং মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সচেতনতা ও গুরুত্ব ছিল, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চর্চা অনেক ক্ষেত্রে কমে এসেছে। জন্মের পরপরই নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা, কর্মব্যস্ততা এবং পরিবর্তিত জীবনধারার কারণে অনেক মা শিশুকে প্রয়োজনীয় সময় মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারছেন না।

তিনি বলেন, আমরা আধুনিক হয়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নবজাতকের জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শালদুধ পান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।

মন্ত্রী বলেন, মায়ের দুধ শিশুর সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি মায়ের স্নেহ, স্পর্শ ও মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। পরিবারে অশান্তি, অবহেলা কিংবা শিশুকে দীর্ঘসময় মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখার নেতিবাচক প্রভাব শিশুর আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ে।

সাম্প্রতিক হাম (মিজলস) পরিস্থিতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়বে। অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সুষম খাদ্যের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিশুর খাদ্য হিসেবে মায়ের দুধের পরিবর্তে বাজারজাত বিকল্প খাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সুস্থ, সক্ষম ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যগত সুফল নিশ্চিত করতে এখনও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মিত ও সঠিকভাবে মাতৃদুগ্ধ পান করালে মায়েদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। তাই মাতৃদুগ্ধ পানের গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী।




৪৫ দিন পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা শুরু মঙ্গলবার

৪৫ দিন পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা শুরু মঙ্গলবার
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ ৪৫ দিন পর পুনরায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চালুর অনুমোদন পেয়েছে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় হাসপাতালটির লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়ায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বহির্বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, জরুরি বিভাগসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা পুনরায় শুরু হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পরিচালক তারিকুল ইসলাম মুকুল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লাইসেন্স পুনর্বহালের মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ মহান আল্লাহতাআলার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছে। একইসঙ্গে সরকার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সেবাগ্রহীতা, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, আইনজীবী, সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে সোমবার বিকেলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে হাসপাতালটির লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়টি জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের পর কর্তৃপক্ষ আপিল করে। সেই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটিকে গত ১৫ জুলাই তিন কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দিলে তা সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

তবে হাসপাতালটির কার্যক্রম পুনরায় পরিচালনার অনুমতির সঙ্গে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে সরকার। শর্ত অনুযায়ী, দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। পাশাপাশি লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। ভবিষ্যতে লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।




দেশে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

দেশে ২ কোটি ২৩ লাখ শিশুকে খাওয়ানো হয়েছে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ ১৪ মাস পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২৮ জুন। এ ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জন শিশুর মধ্যে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জনকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। এ হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের (আইপিএনএইচ) পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, প্রথমে দেশব্যাপী ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বিভাগীয় সিভিল সার্জনদের পাঠানো হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ২ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৬৪ জনে। এ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৫০৯ জন শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

ডা. ইউনূস আলী আরও বলেন, ১২টি জেলার ৫৮টি উপজেলার ২৯০টি ইউনিয়নের ৭১৪টি ওয়ার্ডের দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পেইন-পরবর্তী চার দিন ‘চাইল্ড টু চাইল্ড সার্চিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ কার্যক্রমও শেষ হয়েছে। এ কার্যক্রমের তথ্য যুক্ত হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৯৯ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইপিএনএইচের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে খুলনা বিভাগে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৯৯ দশমিক ২৬ শতাংশ, চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, রংপুর বিভাগে ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৯৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৮ দশমিক ৪০ শতাংশ, ঢাকা বিভাগে ৯৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং সিলেট বিভাগে ৯৭ দশমিক ২০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।