সংস্কারপন্থী ইস্যুতে বান্দরবানে বিএনপি নেত্রী মাম্যাচিংকে নিয়ে ফেসবুকে নেতা কর্মীদের স্ট্যাটাস: জেলা জুড়ে তোলপাড়

মাম্যাচিং এক সময় বান্দরবান জেলা বিএনপি'র সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে জেলা বিএনপি'র সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কর্নেল অলির সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আ'লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। বিগত ১/১১ সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভুঁইয়া ও সিনিয়র নেতা কর্নেল অলি আহাম্মদ গ্রুপে যুক্ত থেকে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মাইনাস টু ফর্মুলা বা দল থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলেন মাম্যাচিং। ১/১১ সরকারের সময় নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে এবং গ্রেফতার এড়াতে বিএনপি রাজনীতি থেকে ইতি টেনে ধর্ম কর্ম নিয়ে ব্যস্থ থাকার ঘোষনা দিয়ে ক্যাং এ উঠে যান তিনি। মাম্যাচিং ২০০১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়ীত্ব পালন করেন। মাম্যাচিং চেয়ারম্যান থাকা কালীন সময়ে জেলা পরিষদের অপর দুই সদস্য লুসাইমং ও আরিফ উদ্দীন কোম্পানিকে নিয়ে টেন্ডার ও চাকুরী বানিজ্যসহ প্রকল্প আত্নসাতের মাধ্যমে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেন। তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি থাকা কালীন সময়ে দলীয় একটি ফান্ড গঠনের মাধ্যমে বান্দরবান বাজারস্থ জৈনিক মানিক লাল দাশের কাছ থেকে জেলা বিএনপির অফিস নির্মানের জন্য জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি প্রতারনা ও ছলচাতুরীর মাধ্যমে উক্ত জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রারী করে নেন। উক্ত জায়গায় পাঁচ তলা বিশিষ্ট মাম্যাচিং মার্কেট নামে একটি বানিজ্যিক প্রতিষ্টান গড়ে তুলেন। ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি ও তার অনুসারীরা গোপনে এনসিপি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এমনকি মাম্যাচিং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কোন নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় অংশ নেননি। এমনকি তিনি ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যাননি। সাম্প্রতিক সময়ে সংসদে সংরক্ষিত আসনে মহিলা সংসদ সদস্য মনোনয়ন পেতে তিনি বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার কাছে ধরনা দেন। খবরটি বান্দরবানে বিএনপি নেতারকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুদ্ব প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নেতা কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাম্যাচিং সম্পর্কে বিভিন্ন নেতিবাচক স্ট্যাটাস দেন।
দলীয় একাধিক নেতাকর্মী ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে মাম্যাচিং প্রচার প্রচানাসহ নির্বাচনী কোন কর্মকান্ডে অংশ নেননি এবং তিনি নিজেও ভোট দেননি।
আহমাদুর রহমান ও রুবেল মহাজন পৃথক পোস্টে অভিযোগ করেন, কর্নেল অলি ও মান্নান ভূইয়ার সহযোগী হিসেবে পরিচিত ১/১১–(মাইনাস টু ফর্মুলা) সংস্কারপন্থী নেত্রী মাম্যাচিং নির্বাচনে ভোট বয়কট করেছেন।
কালাম নামে এক কর্মী পোস্টে লিখেছেন, যারা ভোটকেন্দ্রে যায়নি এবং ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানাতে পারেনি, তারা আবার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার স্বপ্ন দেখা উচিৎ নয়।
যুবদল নেতা মো. বাদশা ও হাবিবুর রহমান হাবিব প্রশ্ন তোলেন, দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যখন প্রার্থীর পক্ষে মাঠে ছিলেন না, তখন তারা কীভাবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ দাবি করেন?।
অন্যদিকে, বান্দরবান জেলা বিএনপির কার্যালয় নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আবু বক্কর ও ওমর ফারুক জিহাদ নামে দুই নেতা পোস্ট দিয়ে দাবি করেন, গত ১৯ বছর ধরে আত্মসাৎকৃত জেলা বিএনপির কার্যালয় ও জমি নেতাকর্মীদের কাছে ফেরৎ দিতে হবে। তাদের ভাষ্য, এই কার্যালয় দলীয় সম্পদ এটি কোনো ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়।
এদিকে মাম্যাচিংপন্থী নেতা চনুমং মারমা নেতাকর্মীদের আনা অভিযোগ স্বীকার করে পাল্টা পোস্টে লেখেন, চাঁদেরও কলঙ্ক আছে, কিন্তু পৃথিবী তার আলোতেই ধন্য।
অপরদিকে, জেলা বিএনপির নামে সদস্য সচিব জাবেদ রেজার ছবিসংবলিত একটি ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, ‘মাম্যাচিং দিদি’কে নিয়ে যারা বিতর্কিত পোস্ট করছেন, তাদের পোস্টের স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে মেসেঞ্জারে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত মাম্যাচিং নেতৃত্বাধীন একটি অংশ অন্যদিকে জেলা বিএনপির আহবায়ক সাচিংপ্রু জেরী এমপির নেতৃত্বাধন মূলধারার বিএনপি নেতাকর্মীদের পরস্পর দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে।
এবিষয়ে মাম্যাচিংয়ের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।











