সবুজ পাহাড় ও নীল জলের হাতছানি: পর্যটন সম্ভাবনায় ভাসছে কাপ্তাই

পাহাড়, নদী আর কাপ্তাই লেকের নীল জলরাশির অপূর্ব মিতালিতে প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের শীর্ষে উঠে এসেছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা। চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র এক ঘণ্টা বিশ মিনিটের দূরত্ব হওয়ায় সহজ যোগাযোগ ও জীববৈচিত্র্যের টানে সারা বছরই এখানে ভিড় করছেন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
কাপ্তাইয়ের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে বাংলাদেশ বন বিভাগের অধীনস্থ কাপ্তাই ন্যাশনাল পার্ক। ওয়াগ্গা বালুছড়া এলাকা থেকে বিস্তৃত এই পার্কে বন্যপ্রাণীর বিচরণ এবং ঘন অরণ্য দর্শনার্থীদের মুহূর্তেই প্রকৃতির সান্নিধ্য দেয়। দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ এবং কর্ণফুলী নদীর শান্ত শীতল স্রোত এই জনপদকে দিয়েছে এক অনন্য বৈশিষ্ট্য।
কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, পাহাড়, নদী ও লেকের এই অনন্য সমন্বয় পর্যটকদের পাশাপাশি গবেষকদেরও সমানভাবে আকৃষ্ট করছে। তিনি বলেন, "সাধারণ পর্যটকের বাইরেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা নিয়মিত এই পার্কের জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণে আসছেন।"
পার্কে আগত দর্শনার্থীদের জন্য পাহাড়ের ওপর রয়েছে বন বিভাগের বিশ্রামাগার ‘বনফুল’। আগাম বুকিং সাপেক্ষে পর্যটকরা এখানে অবস্থানের সুযোগ পান। এই বিশ্রামাগারের বারান্দা এবং পার্কের পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে পুরো কাপ্তাইয়ের দিগন্তজোড়া পাহাড়ি সৌন্দর্য ও কর্ণফুলী নদীর অববাহিকা উপভোগ করা যায়। যদিও এটি একটি সংরক্ষিত বন, তবে যথাযথ অনুমতিক্রমে পর্যটকরা এর অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য অনায়াসে উপভোগ করতে পারেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে কাপ্তাই দেশের পর্যটন মানচিত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।











