সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব
ছবি সংগৃহীত।

নবম জাতীয় পে-স্কেল (বেতন কাঠামো) নিয়ে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করবে এ সংক্রান্ত কমিশন। জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা নতুন স্কেলে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কমিশনের সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ প্রতিবেদন জমা দেবেন। এসময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই থেকে।

প্রস্তাবে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ।
এছাড়া প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় নিচের ধাপে বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কমিশনের সব সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট হবেন।

পে কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে জানান, নবম পে স্কেলের সব বিষয় মোটামুটি চূড়ান্ত। খসড়া সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে আজ তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সুপারিশের কোনো কপি সদস্যদের কাছে থাকবে না। এটি শুধু প্রধান উপদেষ্টার কাছেই থাকবে।

এদিকে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে না।

রিপোর্টটি জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হবে। এ প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে এটি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।  
তিনি বলেন, এবারের পে-কমিশন কাজের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কমিশন সদস্যরা বহুবার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, ছাত্র, বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন, এমনকি অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী ও বয়স্ক নাগরিকদের মতামতও নেওয়া হয়েছে। ফলে কমিশন সদস্যরা সরকারি কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সুপারিশ প্রস্তুত করেছেন এবং এতে তারা সন্তুষ্ট হবেন। তবে সবার চাহিদা হুবহু বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও, তাদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা সুপারিশে প্রতিফলিত হবে।

বেতন বৃদ্ধি বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজারে এর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। কারণ সরকার সরবরাহপক্ষ (সাপ্লাই সাইড) শক্তিশালী রাখার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ। সে হিসেবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে-স্কেলের জন্য পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।




চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন

চাকরি যাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার, শিগগিরই প্রজ্ঞাপন
ছবি সংগৃহীত।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বরখাস্ত হতে যাওয়া পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা হলেন— বিপ্লব কুমার সরকার, মো. গোলাম রুহানী, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রাজন কুমার দাস ও মো. ইকবাল হোসাইন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশালে রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। মো. গোলাম রুহানী (সাবেক ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই) বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী সাময়িক বরখাস্ত হয়ে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। রাজন কুমার দাস সাময়িক বরখাস্ত ও পলাতক। মো. ইকবাল হোসাইন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকা এবং পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে।




২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন

২৭ আগস্ট বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১-এর পরিচালক মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ২৭ আগস্ট বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এটি চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রপতি বলেছেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩য়) অধিবেশন আহ্বান করছি।’’




অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

অতীতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

অতীতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও একটি নির্দিষ্ট সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ব্রিফিং এবং সরকারের প্রকাশ্য বক্তব্য থেকে বাংলাদেশ বিষয়টি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করেছে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দিক থেকে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তার বক্তব্যের পর বাংলাদেশের দেওয়া বিবৃতিতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই– এমন বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের দৃষ্টিতে বিষয়টির সঙ্গে ভারতের কোনো না কোনো পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা বা সমর্থনের প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে বিন্যাস বা ‘রিঅ্যালাইনমেন্ট’-এর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা।