সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগে হাটহাজারীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কৃত
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন

সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগে হাটহাজারীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কৃত

সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগে হাটহাজারীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কৃত
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীতে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিককে হুমকি ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মো. মুমিনুল হককে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে উত্তর মাদার্শা স্বেচ্ছাসেবক দল।

হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসিফ মিজানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে মুমিনুল হককে সংগঠনের পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, চৌধুরীহাট নার্সিং হোমে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান মৃত প্রসবের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় সাংবাদিকদের নার্সিং হোম থেকে বের হয়ে যেতে বলা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মুমিনুল হকের বিরুদ্ধে।

এর আগে একই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনজেকশন দেওয়ার পর গর্ভের সন্তান মৃত প্রসবের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মুমিনের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর তা দলীয় পর্যায়ে নজরে আসে।

ঘটনাটি জানার পর প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন এমপি দলীয় নেতা-কর্মীদের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে মুমিনুল হককে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, সাংবাদিকদের কাজে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে চৌধুরীহাট নার্সিং হোমে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান মৃত প্রসবের ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা, ইনজেকশন প্রয়োগের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং মৃত সন্তান প্রসবের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

এ ছাড়া ঘটনার সময় নার্সিং হোমে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করে ফিরে গেছেন—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।




ফটিকছড়িতে দুই মন্দিরে চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন, চার গ্রেপ্তার; মালামাল, নগদ টাকা ও সিএনজি উদ্ধার

ফটিকছড়িতে দুই মন্দিরে চুরির রহস্য উদ্‌ঘাটন, চার গ্রেপ্তার; মালামাল, নগদ টাকা ও সিএনজি উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়িতে পৃথক দুটি মন্দিরে চুরির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামাল, নগদ টাকা ও চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব ও মগধেশ্বরী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে লেলাং ইউনিয়নের শ্রী শ্রী মা মঙ্গল চণ্ডী মন্দিরেও চুরি হয়। পৃথক এসব ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করা হয়।

ঘটনার পর ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার দাউদকান্দির মো. ইউসুফ (৩২), ফটিকছড়ির উত্তর ধুরুং এলাকার মো. হাশেম (৪২), ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর রাঙ্গামাটিয়া এলাকার মো. সাহাব উদ্দিন (৪১) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার চন্দ্রপুর এলাকার রুহুল আমিন (২৯)। রুহুল আমিন বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর আই কলোনিতে বসবাস করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে তিনটি পিতলের ঘট, দুটি পিতলের পঞ্চপ্রদীপ, দুটি ত্রিশূল, একটি পিতলের ঘণ্টা, ছয়টি পিতলের সরই, ছয়টি স্টিলের ছোট-বড় প্লেট, দুটি চামচ, একটি পিতলের বড় ঘট, দুটি পিতলের কোষা, একটি বদনা, একটি কাঁসার গামলা, একটি গ্লাস, ছয়টি পিতলের ছোট থালা, একটি আরতি, একটি দুর্গামূর্তি ও চারটি পিতলের বাটি।

এ ছাড়া প্রণামী বাক্সে থাকা ১ হাজার ২০০ টাকা এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের দানবাক্সসহ অন্যান্য মালামাল চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, চুরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে চুরি প্রতিরোধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে।




ফটিকছড়িতে মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালংকারসহ পূজার সামগ্রী লুট

ফটিকছড়িতে মন্দিরে চুরি, স্বর্ণালংকারসহ পূজার সামগ্রী লুট
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিকপাড়ার শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে, রাতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে প্রবেশ করে পূজার বিভিন্ন সামগ্রী, তিনটি ঘট এবং ঘটের সঙ্গে থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের লকেট নিয়ে যায়।

মন্দির কমিটির সভাপতি ও পরিচালক বিশ্বনাথ ধর বলেন, মন্দিরের পূজার জিনিসপত্র, তিনটি ঘট এবং ঘটের গলায় থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের লকেট নিয়ে গেছে। আনুমানিক দুই থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ ছিল। এমনকি আজকের পূজার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তারা রেখে যায়নি।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অমর কান্তি দে বলেন, দুর্গাপূজার আগে এমন চুরির ঘটনায় আমাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর একই এলাকার দারোগা আলী তালুকদার বাড়ির ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বাহাদুরের ঘরে ঢুকে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় চোরের দল। আলমগীর হোসেন বাহাদুর লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সরোয়ার হোসেনের বড় ভাই। এর একদিন আগে সুন্দরপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়া ব্রাহ্মণ সড়কে অবস্থিত শ্রী শ্রী মগধেশ্বরী মায়ের বিগ্রহ মন্দিরের তালা ভেঙে দেবদেবীর গহনা, পূজার সামগ্রী ও দানবাক্সের টাকা চুরির ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পাইন্দং ইউনিয়নের যুগিনীঘাটা এলাকায় নুরুল আলম ফোরম্যানের বাড়ির খোরশেদুল আলমের ঘরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের হাত-মুখ বেঁধে জিম্মি করে ডাকাত দল সাড়ে ১১ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।




ফটিকছড়িতে ৪৬ প্রতিষ্ঠানের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত

ফটিকছড়িতে ৪৬ প্রতিষ্ঠানের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ৪৬টি প্রাতিষ্ঠানিক পুকুরে ২০০ কেজি রুই জাতীয় মাছের পোনা বিতরণ ও অবমুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের রাজস্ব খাতের আওতায় উপজেলার এতিমখানা, মাদ্রাসা, মসজিদ, গুচ্ছগ্রাম ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের পুকুরে এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়। পোনার মধ্যে ছিল রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউস।

উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনা অবমুক্ত করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম।

এ সময় ফটিকছড়ি পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোবারক হোসেন কাঞ্চন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি মনসুর আলম চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বজল আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।